প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসপাতালে রোগী ধর্ষণ
ডা. রিয়াদের আমলনামা তদন্ত কমিটি গঠন

ডেস্ক রিপোর্ট : ডাক্তার রিয়াদকে সহকর্মীরা চেনেন প্রাণ নামে। আর এই প্রাণই যে ডাক্তার সমাজের উপর কলঙ্ক লেপন করবে- এটা অনেকেই আঁচ করতে পারছিলেন আগে থেকেই। তার সহপাঠীরা জানান, প্রাণ আগে থেকেই বেপরোয়া। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে নানা সময়ে অনেক কথা শুনেছেন তারা। বিশেষ করে সুন্দরী রোগী দেখলে প্রাণের প্রাণ উথাল-পাথাল করতো। শেষ পর্যন্ত প্রাণ ধরা পড়েছে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

শুধু ওই কলেজছাত্রীই নয়, যৌন হয়রানির আরো অভিযোগ রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌন বিভাগের ডাক্তার রিয়াদ সিদ্দিকী ওরফে প্রাণের বিরুদ্ধে। অনেক নারীকেই যৌন হয়রানি করেছেন তিনি। তবে ফেঁসেছেন এবারই প্রথম। ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর প্রকাশ পাচ্ছে তার আমলনামা। আলোচনার বিষয় এখন মো. রিয়াদ সিদ্দিকী। নিজের কর্মস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সর্বত্র তাকে ঘিরে আলোচনা। বিব্রতবোধ করছেন সহকর্মীরা। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানতে একটি কমিটি করেছে বিএসএমএমইউ। সাতদিনের মধ্যে এই কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

মেডিক্যালে রিয়াদ সিদ্দিকীকে ডা. প্রাণ নামেই চিনেন সবাই। রাজনীতি-সংস্কৃতি দুটি ক্ষেত্রেই রয়েছে তার প্রভাব। ছাত্রজীবন থেকেই গান করেন। রাজনীতি করেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করেছেন রিয়াদ সিদ্দিকী। ওই সময় থেকেই সহপাঠী একাধিক মেয়ের সঙ্গে ছিল তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করার সুবাধে অনেকের প্রিয়মুখ ছিলেন তিনি। জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও। নারী সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে অতীতে মারধরেরও শিকার হয়েছেন। যদিও তার ঘনিষ্ঠদের দাবি রাজনৈতিক কারণেই কয়েক বার প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন রিয়াদ।

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের দিকে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে। এখানে যোগ দেয়ার পর একাধিকবার তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ানোর আগেই সমাধান করেছেন সহকর্মীরা। সর্বশেষ ভোলার ওই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠার পর তা আর সামলাতে পারেননি। অভিযোগটি ঢাকা মেট্টোপলিটনের শাহবাগ থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে। মামলা দায়েরের পরদিন থেকে পলাতক রয়েছেন ডাক্তার রিয়াদ ওরফে প্রাণ। গতকাল বিএসএমএমইউ-তে গেলে কথা হয় তার সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সহকর্মীরা জানান, আচরণে বেশ ভদ্র, নম্র প্রাণ। কলেজ থেকে কর্মস্থল সর্বত্রই নারীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও নারীভক্তের সংখ্যা বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়ে অনেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েছেন এই ডাক্তার।

ডেনমার্ক থেকে আবু সুফিয়ান নামে এক ব্যক্তি মানবজমিনের অফিসে ফোনে জানান, তার বান্ধবীকেও যৌন হয়রানি করেছেন রিয়াদ। সুফিয়ানের বান্ধবীও একজন ডাক্তার। তিনি থাকেন আমেরিকায়। প্রায় দেড় বছর আগে বোনের বিয়ে উপলক্ষে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। বিএসএমএমইউ-তে পরিচয় হয় রিয়াদের সঙ্গে। তারপর নানা অজুহাতে তাকে কল দিতেন রিয়াদ। কয়েক বার বিএসএমএমইউ-তে দেখা হয়। এক পর্যায়ে ডেকে নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন। ওই ঘটনার পর থেকে রিয়াদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি ওই ডাক্তার নারী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের মামলা দায়েরের পর শাহবাগ থানায় ফোন করেও এরকম অভিযোগ জানিয়েছেন বিভিন্ন জন। রিয়াদের ঘনিষ্ঠরা জানান, সুন্দরী নারী দেখলেই সখ্য গড়তে চান তিনি। তবে তিনি যা করতেন তা সমঝোতার ভিত্তিতেই। যে কারণে এর আগে কোনো অভিযোগ উঠেনি তার বিরুদ্ধে।
বিএসএমএমইউ-এর প্রক্টর অধ্যাপক হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে জানান, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. রহুল আমিন মিয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অনুসন্ধান করবে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দিবেন। প্রতিবেদন অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ই জানুয়ারি ধর্ষণের অভিযোগে রিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে শাহবাগ থানায়। নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, ২৯শে ডিসেম্বর ভোলায় রিয়াদের চেম্বারে এবং ৩১শে ডিসেম্বর ঢাকায় বিএসএমএমইউ-তে বিশ্রামাগারে ধর্ষণ করা হয় এই তরুণীকে। রোগী হিসেবে ডাক্তার রিয়াদের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে ভয়-ভীতি দেখিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করা হয় তাকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত