প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বছরের প্রথম দিনে ৮ হাজার শিশুর জন্ম

ডেস্ক রিপোর্ট : নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে বাংলাদেশে এবার আট হাজারেরও বেশি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। গতকাল ইউনিসেফের এক রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘কিরিবাতি খ্রিস্টমাস আইল্যান্ড’ নামে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপে নববর্ষের প্রথমক্ষণে প্রথম শিশুটি জন্ম গ্রহণ করেছে।

নয়াদিগন্তের খবরে বলা হয়েছে, নতুন বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে আট হাজার ৩৭০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। আর সারা বিশ্বে জন্মগ্রহণ করেছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩টি শিশু। এর মধ্যে চীনে ৪৪,৭৬০ জন, নাইজেরিয়ায় ২০২১০ জন, পাকিস্তানে ১৪,৯১০ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩,৩৭০ জন, আমেরিকায় ১১,২৮০ জন, কঙ্গোতে ৯,৪০০ জন, ইথিওপিয়ায় ৯,০২০ জন এবং বাংলাদেশে ৮,৩৭০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। ইউনিসেফ বলেছে, এসব শিশুর মধ্যে অনেকেই বেঁচে থাকবে, আবার অনেক শিশু হয়তো তার প্রথম দিনটিও দেখে যেতে পারবে না। যেসব শিশু মারা যাবে, তাদের ৮০ শতাংশ এমন সব রোগের (যেমন : সেপিসিস বা নিউমোনিয়া) কারণে মারা যাবে যা চিকিৎসায় সমাধান করা সম্ভব ছিল।

ইউনিসেফের বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেইবেদার বলেন, এ বছর ইউনিসেফের বিজুলেশনে বলা হয়েছে, একটি শিশুকে একদিন বা এক সপ্তাহ অথবা এক মাস, এমনকি তার চেয়েও বেশি আরো কয়েকটা দিন বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করব সরকার এবং এ সম্পর্কিত অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন লাখ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে। গত দুই দশকে শিশুমৃত্যু বিশ্বে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেলেও এটা দুঃখজনক যে এখনো বিশ্বে প্রায় ৫৬ লাখ শিশু তাদের পঞ্চম জন্মদিনটিও দেখে যেতে পারে না।
প্রতিটি শিশুকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ইউনিসেফ আগামী মাস থেকে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সারা বিশ্বে তারা ক্যাম্পেইন করে দাবি জানাবে নবজাতক ও তার মায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য। যাতে রয়েছে নবজাতক জন্মের সময় বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার পানির নিশ্চয়তা দান, স্বাস্থ্যসুবিধার জন্য উপযুুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর নিশ্চয়তা, জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যে মাতৃদুগ্ধ পানের নিশ্চয়তা প্রদান প্রভৃতি।

আমরা নতুন যুগে প্রবেশ করছি। নবজাতক যেন, আগামী ২১০০ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে সে সুযোগ তৈরি করে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু দুঃখজনক যে, আজকের নবজাতকের অর্ধেকেরই সে সুযোগ হয়তো হবে না। যে শিশুটি সুইডেনে জন্মগ্রহণ করল সে হয়তো ২১০০ সালটি দেখে যেতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশে যে শিশুটি জন্ম নিলো তার ২০৯১ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকারও সম্ভাবনা থাকবে না।

সর্বাধিক পঠিত