প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট : রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের বিভিন্ন গুদামে মজুদ কিছু খাদ্যপণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে আসছে। আগামী ২০ দিনের মধ্যে এসব খাদ্যপণ্য বিতরণ করতে হবে। ১৪টি গুদামে খাদ্যপণ্যের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৩২ টন।

রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন দেশ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে এ ত্রাণসামগ্রী এসেছে। তবে সময়মতো এগুলো বিতরণ করা না গেলে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, কোনো ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হবে না। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে সেগুলো সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ আশঙ্কার কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে খাদ্যপণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে তা সুবিধাভোগীদের মধ্যে বণ্টনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি। চিঠির এ অনুলিপি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান, তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবহন ও হ্যান্ডলিংসহ অন্য আনুষঙ্গিক কাজে ইতিমধ্যে ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৫২ টাকা খরচ হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব খাদ্যসামগ্রী মেয়াদ উত্তীর্ণের পর্যায়ে চলে এসেছে তা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বণ্টন করতে হবে। এ কাজে নিয়োজিত জনবল বিশেষ করে শ্রমিক, পরিবহন ও হ্যান্ডলিং কাজে প্রয়োজনীয় জোগানে আরও ৫০ লাখ টাকা খরচ হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এর আগে খাতওয়ারি চাহিদাপত্র নির্ধারণ করে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার কার্যবিবরণীসহ ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৫২ টাকার ব্যয় বরাদ্দের আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত ব্যাংক তহবিল থেকে ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। এ সময় চারটি চাহিদাপত্র দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন। ফলে ৫ম আবেদনে তিনি আগের খরচ হওয়া অর্থসহ নতুন অর্থ মিলে সোয়া কোটি টাকা (১ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৫২ টাকা) দ্রুত ছাড় করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল আরও বলেন, স্থানীয় জেলা প্রশাসন থেকে কিছু খাদ্যসামগ্রীর মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয় অবহিত হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে যেসব খাদ্যসামগ্রী নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে তা মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগে ব্যবহার করা হয়ে গেছে। এমনকি সামনে মেয়াদ শেষ হবে এমন মজুদ খাদ্যসাসগ্রী নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া ত্রাণসামগ্রী মজুদ করছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ শাখা। একই সঙ্গে চাহিদার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সুবিধাভোগীদের মাঝে সেগুলো বণ্টনের দায়িত্বও পালন করছে। তবে এ কাজে নিয়োজিত সরকারি জনবল কম। যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত