প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বছরের শুরুতে বেড়েছে আমানতের সুদহার

ডেস্ক রিপোর্ট : নতুন বছরে সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে মেয়াদি আমানত নিচ্ছে ঢাকা ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানার অগ্রণী ব্যাংক সব ধরনের মেয়াদি আমানতের সুদহার দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ করেছে। রূপালী ব্যাংক ১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে ৬ শতাংশ সুদে আমানত নিচ্ছে। আমানতকারীদের আকর্ষণ করতে নতুন বছরে এভাবে বেশিরভাগ ব্যাংক আমানতের সুদ বাড়িয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোও শিগগিরই বাড়াবে বলে জানা গেছে।

নতুন সুদহার অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ বাড়িয়ে ৩ মাস মেয়াদি আমানতে ৫ শতাংশ, ৬ মাস মেয়াদি ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং এক বছর বা এর বেশি মেয়াদি আমানতে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে। বছরের প্রথম দিন থেকে রূপালী ব্যাংকও তিন মাস মেয়াদি আমানতে সাড়ে ৪ শতাংশের পরিবর্তে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। ৬ মাস মেয়াদিতে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং এক বছর মেয়াদিতে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। আর স্বল্প মেয়াদিতে ৩ থেকে বৃদ্ধি করে ৪ শতাংশ এবং সঞ্চয়ী আমানতে সাড়ে ৩ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ সুদ দিচ্ছে।

জানতে চাইলে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমানতের তুলনায় ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই আমানতের ওপর চাপ তৈরি হয়। দুই বছর ধরে আমানতের তুলনায় ঋণে বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এ রকম সময়ে আমানত সংগ্রহে সুদহার বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। সামনের দিনে এটি আরও বাড়তে পারে। নতুন বছরে শুধু ঢাকা ব্যাংক নয়, দেশের বেশিরভাগ ব্যাংক আমানতে সুদহার বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির পর আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারায় অনেকের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমানতকারীদের অনেকের মধ্যে সরকারি ব্যাংকের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও তারা এখানে অর্থ রাখা নিরাপদ মনে করছেন। এ রকম সময়ে আমানতকারীরা যেন না ঠকেন, সে জন্য সুদহার কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি অনেক ব্যাংক ইতিমধ্যে ঋণ আমানত অনুপাতের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। আরও অর্থের দরকার হওয়ায় অনেক বেসরকারি ব্যাংক বন্ড দিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

ব্যাংকগুলোর ডিসেম্বর ভিত্তিক ঋণ আমানতের সম্মিলিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ অক্টোবর ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। বর্তমানে আমানতের তুলনায় ঋণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকের ১২ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ। প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংক যেখানে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারে, সেখানে এসব ব্যাংক ইতিমধ্যে ৮৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঋণ দিয়েছে। আর ইসলামী ব্যাংকগুলো ৯০ শতাংশ দিতে পারে, এর বিপরীতে সেগুলো দিয়েছে ৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

পুরো ব্যাংক খাতে অক্টোবর পর্যন্ত ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অথচ রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এডিআর রয়েছে ৫২ দশমিক ৫১ শতাংশ। আলোচ্য সময় পর্যন্ত এসব ব্যাংকের ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের এডিআর রয়েছে ৭৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। ব্যাংক দুটির ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ আমানত বৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৬৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ এডিআর রয়েছে। এসব ব্যাংকের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ আমানতের বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যাংকের তুলনায় বেসরকারি ব্যাংকে আমানতে সুদহার বেশি থাকলেও নতুন করে আবার বাড়াচ্ছে। সমকাল

সর্বাধিক পঠিত