প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতি, কূটনীতি, বিশ্বকাপ উত্তেজনায় ভরে থাকবে নতুন বছর

ডেস্ক রিপোর্ট : অনেক পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব মিলাতে মিলাতে কৃষ্ণগহ্বরে আশ্রয় নিয়েছে আরো একটি বছর। নতুন আলো-নতুন আশার স্বপ্ন জাগিয়ে উদয় হয়েছে সূর্য। শুরু হয়ে গেছে নতুন আরেকটি বছর ২০১৮। বিশ্ববাসীর জন্য এ বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অঙ্গনে এ বছরেই রয়েছে বড় বড় কতগুলো ইভেন্ট। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইভেন্টগুলো হলো- রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মধ্যবর্তী নির্বাচন। উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রস্তুতি। রাশিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো- এ বছরেই প্রথম ফ্রান্সের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিষিদ্ধ হচ্ছে স্মার্টফোন। প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার অতি আদরের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির বিয়ে এ বছরেই। এসব বিষয়ের দিকে কৌতূহলী চোখ থাকবে বিশ্ববাসীর। বিশেষ করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকে। কারণ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাবেক কেজিবি বস, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও হাল আমলে নিজেকে বিশ্বমঞ্চে ব্যাপক শক্তিধর হিসেবে প্রমাণ দেয়া ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি এর আগেও দু’দফা ক্ষমতায় ছিলেন। এরপর ক্ষমতায় আনেন তারই ‘হাতের পুতুল’ দমিত্রি মেদভেদেভকে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তাকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেন পুতিন। এরপর নির্বাচনে নতুন করে নির্বাচিত হয়ে ফের ক্ষমতায় আসেন পুতিন। এটা তার প্রেসিডেন্ট পদে তৃতীয় মেয়াদ। নতুন বছরে নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদ পুতিনের জন্য অনিবার্য। সেদিকেই যাচ্ছেন পুতিন।

কারণ, এরই মধ্যে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নাভালনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। ওদিকে ২০১৮ সালটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষা বলে ধরা হচ্ছে। কারণ, ক্ষমতার এক বছর মেয়াদ শেষে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই ধসে গেছে। অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি এ সময়ে। এমন কি নিজ দল রিপাবলিকানের অনেক নেতার সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৭ সালের শেষের দিকে আলাবামা রাজ্যে সিনেট নির্বাচনে তার মনোনীত রয় মুর পরাজিত হয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী ডগ জোনস’র কাছে। ওই রয় মুরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন নারী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন। এ জন্য তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি করেছিলেন রিপাবলিকানরা। কিন্তু তাতে কান দেননি ট্রাম্প। তিনি রয় মুরকেই সমর্থন করেছেন।

এ অবস্থায় বছরের মাঝামাঝি কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ভালো ফল করার আশা করছে ডেমোক্রেটরা। এমনকি তারা এর মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে চায়। যদি তারা এক্ষেত্রে সক্ষম হন তাহলে তা হবে ট্রাম্পের প্রতি বিরাট এক আঘাত। ওদিকে বৃটেনে আরো একটি বছর ক্ষমতায় টিকে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। কারণ, সেখানে ২০১৭ সালের নির্বাচনে বিরোধী নেতা জেরেমি করবিনের লেবার দল অনেক ভালো ফল করেছে। ফলে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এমন কাউকে খুঁজে পাবে না, যিনি ওই করবিনের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারেন। কারণ, এক্ষেত্রে পরাজিত হওয়ার ঝুঁকি আছে। তাই তেরেসা মে-ই থেকে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া আরো ঝুঁকি আছে। সেটা হলো বৃটেনের এখনকার সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাহলো ব্রেক্সিট সম্পাদন করা। এই দায় এসে বর্তেছে তেরেসা মের কাঁধে। তাকেই এ বৈতরণী পার করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একে বল হয় পাউডার কেজ।

অনেকেই আশঙ্কা করেন, এই উত্তেজনা থেকে আঞ্চলিক আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তবে এমন যুদ্ধের আশঙ্কা নেই। কিন্তু সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার মূল্য দিতে হবে ইয়েমেন, সিরিয়া ও লেবাননের সাধারণ মানুষকে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা। ট্রাম্পের এমন ঘোষণা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা এমনিতেই বিদ্যমান। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাকযুদ্ধ থেমে নেই। আফ্রিকাও কি শান্তিতে থাকবে! ২০১৭ সালের শেষের দিকে পতন হয়েছে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের। ক্ষমতায় এসেছেন তারই অধীনে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট (পরে বরখাস্ত) এমারসন মনাঙ্গাগওয়া। ধারণা করা হয়, মুগাবের চেয়ে তিনি অর্থনীতিকে আরো সচল করতে পারবেন।

তিনি দেশটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন বছরে সেখানে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টি কেমন করে সেদিকে তাকিয়ে থাকবে সচেতন বিশ্ব। এ ছাড়া ২০১৮ সালে নির্বাচন হবে ক্যামেরুন, বিষুবীয় গিনি ও উগান্ডায়। এ দেশগুলোতে ক্ষমতায় আছেন যথাক্রমে পল বিয়া, তিওডোরো নগুয়েমা ও ইয়েয়েরি মুসেভেনি। এ তিন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে তাদের ক্ষমতাকে ধরে রাখার চেষ্টা করবেন এটা নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায়। নতুন বছরে সবচেয়ে উত্তেজনাকর বিশ্বকাপ ফুটবল আসর বসবে রাশিয়ায়। এ বিশ্বকাপে এবার নেই ইতালি। ভালো শক্তি নিয়ে সামনে আসবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এতে প্রাধান্য বিস্তার করছে পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ। তারা হলো জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন। জার্মানি তাদের শিরোপা ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। তবে অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে কেউ কেউ। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত