প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বছর

ডেস্ক রিপোর্ট : আগের চ্যালেঞ্জগুলো চলতি বছরও টানতে হয়েছে দেশের পোশাক খাতকে। রানা প্লাজা ধসের পর গুলশানের হলি আটিজানের ঘটনায় দ্বিতীয় বার ধাক্কায় পড়ে খাতটি। উদ্যোক্তারা ধাক্কা সামলিয়ে ওঠার চেষ্টা শুরু করে। ফলে বেশির ভাগ কারখানা হয় পরিবেশবান্ধব। ধীরে ধীরে বিদেশি ক্রেতাদেরও আস্থা বাড়তে শুরু করে। এর পরও এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি পোশাক মালিকরা।

ফলে বছরের শুরু থেকেই পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ছিল নিম্নমুখী। যদিও গত কয়েক মাস কিছুটা বেড়েছে। তবে গত ১৫ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে।

পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও উল্টো পোশাকের কম মূল্য পেয়েছেন মালিকরা। তবে নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ২০১৮ সাল পোশাক শিল্পের জন্য আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হবে বলে প্রত্যাশা পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু সেই পোশাক রপ্তানি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। এ বছরে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ০.২ ভাগ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জানা গেছে, রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের শর্ত নিয়ে আসে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের ২ জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। এদের শর্তপূরণ করতে গিয়ে মালিকদের বিনিয়োগ করতে হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এজন্য ক্রেতারা দেননি পোশাকের বর্ধিত মূল্য। ওদিকে শর্তপূরণ করতে না পেরে অর্থায়নের অভাবে বন্ধ হয়েছে অসংখ্য কারখানা।

এদিকে দেশে দারিদ্র্য নিরসন ও কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম মাধ্যম পোশাক খাত বর্তমানে একটা জায়গায় আটকে আছে। জানা গেছে, ১৯৯০-৯৫ সময়ে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিতে পোশাক খাতের গড় অবদান ছিল যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ, সেখানে ১৯৯৫-২০০০ সময়ে তা হয় ৬ শতাংশ এবং ২০০০ থেকে ২০০৫ সালে নেমে দাঁড়ায় সাড়ে ৪ ভাগে। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালে এটা সাড়ে ১১ ভাগ হলেও ২০১০ সালের পর থেকে মাত্র ১ ভাগে নেমে এসেছে।

পোশাকশিল্প মালিকদের অভিযোগ, পোশাক খাতে এবারে যোগ হয় চট্টগ্রাম বন্দর সংকট। টানা আড়াই মাস জাহাজজটে পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণে জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে রপ্তানি মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ২০১৮ সালে পোশাক খাত এগিয়ে যাবে বলে আশায় বুক বাঁধছেন মালিকরা। তবে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে করণীয় তুলে ধরেন রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির দ্রুত বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে ভারত ও ভিয়েতনাম।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যতে নিয়ে আমাদের বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমাদের ইমেজটাকে যেভাবে বাড়ানোর দরকার ছিল সেভাবে আমাদের অ্যাম্বাসিগুলো কাজ করছে না। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পে বিশ্বে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার ৬.৩ শতাংশ, যেখানে ৩৬-৩৭ শতাংশ চীনের। তাই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানি বাড়াতে গবেষণার মাধ্যমে পোশাকের মান উন্নত করার বিকল্প নেই।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছর ২ হাজার ৮০৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। অর্থাৎ গত অর্থবছর শেষে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় ০.২০ শতাংশ। অথচ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.১৪ শতাংশ। দেশের সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি আয়ের এ খাতটি এর চেয়ে বাজে অবস্থায় পড়েছিল ২০০১-০২ অর্থবছরে। সেবার পোশাক রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ডলারের ওভেন পোশাক ও ১ হাজার ৩৭৫ কোটি ডলারের নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় নিট পোশাক রপ্তানি ৩ শতাংশ বাড়লেও ওভেন পোশাক রপ্তানি ২.৩৫ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, প্রবৃদ্ধি দেশের তৈরি পোশাক খাতের বাস্তবতারই চিত্র। এ খাত এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে রয়েছে কারখানাগুলোয় অবকাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম, ইউরোর দরপতন ও বছরের মাঝা-মাঝি শ্রমিক অসন্তোষের মতো বিষয়।

এদিকে ইপিবির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে তৈরি পোশাকখাতের পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৯৬ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার; যা এ সময়ের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২.৮৭ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসের তুলনায় এবার এ খাতের পণ্য রপ্তানি আয় ৭.৪৬ শতাংশ বেড়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর মেয়াদে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৬২৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। একই সময়ে ওভেন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫৭১ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৭৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৮২ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত অর্থবছর প্রথম ৫ মাসে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ