প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্দোলন ও নির্বাচন কোনটাই ছাড়তে নারাজ বিএনপি!!!

তারেক:  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ভুলের খেসারত গুনছে বিএনপি। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না বিএনপি। যে কোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচনে যাওয়ার পথ খুঁজছে দলটি। তবে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের। ওই সময় দলীয় সরকারের অধীনে বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে না যাওয়ার নীতিগত অবস্থানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। এ জন্য নির্বাচন প্রস্তুতি পাশাপাশি আন্দোলনের পথও খোলা রাখা হচ্ছে। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো দুর্নীতির মামলায় ‘সাজা’ দিয়ে নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হলেও আন্দোলনে যাবে বিএনপি।

সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকার খোলা মন নিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য আলোচনায় বসলে বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দেবে। সরকার চাইলে সংবিধানের ভিতর থেকেই নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে থাকবে বিএনপি। সেখান থেকেই তবে সরকারকেও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এক জায়গায় ‘গো’ ধরে বসে থাকলে বিএনপির হাতে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া ‘বিকল্প’ কোনো পথ থাকবে না বলেও দলের একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। আমরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নিতে চাই। যে কোনো সময় নির্বাচন দিলেও বিএনপি প্রস্তুত। তবে নির্বাচনকালীন সরকার অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে।

কোনোভাবেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলে অবশ্য নির্বাচনে যাবে বিএনপি।’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সরকার খোলা মন নিয়ে এগিয়ে এলে বিএনপিও ছাড় দেওয়ার মানসিকতায় থাকবে।’ জানা যায়, আন্দোলনের পথ খোলা রেখেই নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা সফর শুরু করেছেন। গতকাল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও সফর সূচি আরও কয়েকদিন চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, ‘সারা দেশেই কেন্দ্রীয় নেতারা সফর করছেন।

এক্ষেত্রে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কিছু বাধা ও প্রতিবন্ধকতাও আসছে। তারপরও থেমে নেই সফর।’ সূত্র জানায়, কয়েকটি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে নেতাদের জেলা সফরে পাঠিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার সাজা হলে করণীয় কী হবে তার একটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কে ধারণা, নির্বাচন প্রস্তুতি, সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির পাশাপাশি আন্দোনের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের।

সরকারকে ‘চাপে’ রাখার কৌশল : নতুন বছরজুড়েই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে থাকবে বিএনপি। একইসঙ্গে নিজেদের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জনমত আদায়ের চেষ্টাও চালানো হবে। বিএনপির নীতি নির্ধারকেরা মনে করেন, এবার বিএনপি জোটকে বাইরে রেখে সরকারের একতরফা নির্বাচন করা সহজ হবে না। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এক্ষেত্রে আগের মতো একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেবে না। আন্তর্জাতিক বিশ্বও তা মেনে নেবে না।

তাই বিএনপিকে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে সরকারকে। এক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষেও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবি আদায় করাও অনেক সহজ হবে। এরপরও সরকারদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাইলে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকারপ্রধান রেখে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।’

খালেদার সাজা হলে ‘অল আউট’ আন্দোলনের চিন্তা : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে অল আউট আন্দোলনে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলটি মনে করে, বিএনপি প্রধানকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে তৎপর সরকার। তাই আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বেগম জিয়াকে সাজা দেওয়ার চেষ্টায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তাই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে থাকারও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দফায় দফায় দলের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে আন্দোলন নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটি ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলছেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার  বলেন, ‘বেগম জিয়ার দুই মামলার গতি-প্রকৃতি দেখে বোঝা যায়, সরকার এতে হস্তক্ষেপ করছে। এ কারণে প্রতি সপ্তাহেই বেগম জিয়াকে আদালতে যেতে হচ্ছে। সরকার অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার চেষ্টা করলেও উচ্চ আদালতে তা টিকবে না। বেগম জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এটাই সাফ কথা।’

উৎসঃ বিডি-প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত