প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রত্যাবাসন সময় এগোচ্ছে বছরের শেষ দিনেও আসে রোহিঙ্গা

ডেস্ক রিপোর্ট : রবিবার বিদায় নিয়েছে ২০১৭ সাল। সদ্য বিদায়ী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের রাত থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের আগমনের ১২৮ দিনও পূর্ণ হল রবিবার। এ সময়ে প্রায় ৮ লাখ নতুন রোহিঙ্গা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে। এর আগে গত ৫ অক্টোবর থেকে এসেছে ৫ লক্ষাধিক। নতুন-পুরনো মিলে ১৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় পেয়েছে কক্সবাজার অঞ্চলের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায়। চলতি বছরের শেষদিনে রবিবার ভোরেও টেকনাফের হাবিরছড়া সীমান্ত দিয়ে নতুন ১২০ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এদের নাম নিবন্ধিত করে আশ্রয় ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইতোমধ্যে যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়েছে আগামী ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বৈঠকে পথম পর্যায়ে একলাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গার নাম উত্থাপন করে তাদেরকে প্রত্যাবাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের তালিকা পেশ করা হবে। সে অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অপরপক্ষে অর্থাৎ মিয়ানমার বিশ্ব চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রত্যাবাসন শুরু করতে বাধ্য হয়েছে। তবে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে সে পরিমাণ ফিরিয়ে নিতে আদৌ তারা রাজি হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারাও তাদের দশ দফা শর্ত পূরণ না হলে নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার পক্ষে দিন দিন দৃঢ়তর অবস্থান নিচ্ছে। মিয়ানমার সরকার ইতোমধ্যে দুটি ক্যাম্প নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। আরেকটির কাজ চলছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা নিজ নিজ বসতি এলাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে এসব ক্যাম্পে রাখা হবে। এখানে উল্লেখ্য, ২০১২ সালে রাখাইনে সহিংসতার পর প্রায় দেড়লাখ রোহিঙ্গা ব্যারাকবাসী হয়ে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করছে। বাংলাদেশ থেকে আগামীতে যারা ফিরে যাবে তাদেরকেও ব্যারাকে রাখা হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ব্যারাকে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে ত্রাণ সহায়তার অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে যাদের নাম চূড়ান্ত হবে তাদের জন্য আরও একাধিক ব্যারাক নির্মাণের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

এদিকে, আগামী ২২ জানুয়ারির আগে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর কথা রয়েছে। এর আগে মিয়ানমারে ১৫ জানুয়ারি বসবে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। ওই বৈঠকের পরই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় উখিয়া টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ ফিরে যেতে রাজি হয়েছে। কেননা, এ অংশের অনেকের রাখাইন রাজ্যে জমিজমা ও ব্যবসায়িক কর্মকা- রয়েছে। আর যাদের সেখানে তেমন কিছু নেই বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে তারা বসবাসের জন্য বাংলাদেশের আশ্রয় ক্যাম্পকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এছাড়া যে ৭১টি এনজিও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে তাদের মধ্যে কয়েকটির পক্ষে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার জন্য ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু বিশ্ব চাপের মুখে মিয়ানমারের এনএলডি নেত্রী আউং সান সুচি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হওয়ার ঘটনায় আশ্বস্ত হয়েছে তারা রাখাইনে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক বসবাসের সুযোগ পাবে। এখানে উল্লেখ্য, লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ তাদেরকে মানবিক কারণে গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা তাদের মাঝে খাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিত্তশালী এবং বিভিন্ন সংস্থার পক্ষেও রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা যেভাবে এগিয়ে গেছে তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাখাইন রাজ্যে ৬ সহস্রাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। বসতির পর বসতি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। যুবতী ও নারীরা হয়েছে ধর্ষিত। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গণকবর দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের। ইতোমধ্যে ১০টি গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। এ গণকবর নিয়ে মিয়ানমার সরকার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে সেনাবাহিনীকে। যে সেনাবাহিনী এ অপকর্মের নায়ক তাদেরকেই দেয়া হয়েছে তদন্তের দায়িত্ব, যা শুধু মিয়ানমার নয় সারা বিশ্বজুড়ে হাসির খোরাক যুগিয়েছে। এরপরও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য যে বড় ধরনের মুসিবত নেমে এসেছে তার অবসান হবে বলে আগ্রহী মহলগুলোতে আলোচিত হচ্ছে। জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত