প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৮ তুমি কার ?

তারেক :   মহাকালের আবর্তে বিলীন হলো আরও একটি বছর ‘২০১৭’। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও বরণ করে নিচ্ছে নতুন বছরকে। নতুন বছর ২০১৮ উপলক্ষে দেশবাসীকে পৃথক পৃথক বাণীতে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি নতুন বছরে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের বাইরে থাকা অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

৩১ ডিসেম্বর রোববার দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইংরেজি নতুন বছর ২০১৮ উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার দেওয়া বাণীতে বলেন, ‘খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে আমি দেশবাসী এবং বিশ্ববাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কামনা করি সকলের অব্যাহত সুখ, স্বাচ্ছন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। শুভ নববর্ষ।’

২০১৫ সালের জ্বালাও পোড়াও এর পর থেকে গত দুটি বছর আমাদের কেটেছে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বড় ধরনের কোনো গোলোযোগ ছাড়াই। নতুন বছর আমাদের সেই সুসময়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে কিনা সেই আশঙ্কা আর উৎকণ্ঠার মধ্যেই ‍শুরু হচ্ছে নির্বাচনের বছর ২০১৮। সংবিধান অনুযায়ী এ বছরের কোনো এক সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশে প্রতিটি নির্বাচনের বছর ঘটনাবহুল সহিংসতায় ভরপুর থাকে। ২০১৮ তেমনই এক সহিংসতার কালো মেঘের আশঙ্কার মধ্যে শুরু হচ্ছে। বছরের শুরুতেই বেগম জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় দিয়ে বছরের রাজনীতি উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্তাপ বছরজুড়েই বাংলাদেশকে এক অগ্নিকুণ্ডে রাখবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক দূরত্ব কমেনি। বরং দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই তাঁদের নিজেদের অবস্থানে অনঢ় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এরকম প্রেক্ষাপটে ২০১৮ র সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কীভাবে একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব?

তবে, ২০১৮ র প্রবেশ মুখে দাঁড়িয়ে একটি কথা নি:সন্দেহে বলা যায়, ২০১৮ র নির্বাচন ২০১৪ এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হবে না। এই নির্বাচন যদি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে শেষ পর্যন্ত না হয় তাহলে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা নাকি অনির্বাচিত শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে ২০১৮ তে?

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে, সেই নির্বাচন দেশেকে কোন পথে নেবে, সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। এই বছর আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে জাতি হিসেবে আমরা কোন পথ বেছে নেব? উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথ নাকি গণতন্ত্রের নামে আবার জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ আর দুর্নীতিকে আলিঙ্গন করবে বাংলাদেশ?

টানা নয় বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। অস্থির, আবেগী বাঙালি জাতি কি যুক্তিহীন পরিবর্তনের পথ বেছে নেবে অথবা সুস্থ এবং উন্নয়নমুখী গণতন্ত্রের পথেই হাঁটবে? বাংলাদেশ বড়ই অভাগা দু:খিনী এক দেশ। যখনই এদেশ হাসতে শুরু করে, তখনই ঘাতক এসে আমাদের ঘাড় মটকে ধরে। ৭৫ থেকে এ ধারায় বার বার রক্তাক্ত হয়েছে এদেশের জনপদ, ক্ষতবিক্ষত হয়েছে জনগণ। বাঙালির জীবনে দীর্ঘস্থায়ী সুখের ইতিহাস নেই। তাই অজানা এক আশঙ্কা নিয়ে নতুন বছরকে আমরা আলিঙ্গন করছি। নতুন বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও ফিরে তাকাতে হবে। এত উন্নয়ন, এত সাফল্যের পরও আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সাধারণ জনমত নেতিবাচক কেন- সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে আওয়ামী লীগকে। কিছু মুষ্ঠিমেয় দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা আর সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর দায় আওয়ামী লীগ কেন নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর আমি যতবার খুঁজি ততবার দেখি মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন আওয়ামী লীগকে বার বার পথে বসিয়েছে। ২০১৮ তে আওয়ামী লীগ যদি জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায় তাহলে দলের এসব আপদ বিদায় করতেই হবে। ক্ষমতার মধু পেয়ে আসা সুবিধাবাদীদের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে না পারলে দেশ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

অস্তীত্বের সংকটে থাকা বিএনপি নতুন বছরে কি আরও সংকটে পড়বে? নাকি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের উপরে অসন্তোষ থেকেই জনগণ আবার তৃতীয়বারের মতো বিএনপিকে বেছে নেবে? এদেশের দুর্ভাগ্য হলো যে, জনগণ ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির দু:শাসন, দুর্নীতি এবং নৈরাজ্যের কাল ভুলে গেছে। তারেক জিয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণাগুলো এখনো সমাজের ক্ষুদ্র চিন্তাশীল অংশই শুধু পোষণ করে। এ অবস্থায় আত্মউপলব্ধি ছাড়া আবার ক্ষমতায় এসে দলটি জনগণকে কি উপহার দেবে?

প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসেব নিকেশ দূরে সরিয়ে রেখে, বিদায়ী বছরের প্রান্ত সীমায় দাঁড়িয়ে এই কথাটা হলফ করে বলা যায়, আওয়ামী লীগ আর বিএনপির পেন্ডুলামেই দুলবে ২০১৮তে এদেশের মানুষের ভাগ্য।

তারপরও শুভ কামণা সবার জন্য।

 

 

 

সূত্র-  প্রিয়.কম,  বাংলা ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত