প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চড়া মূল্য দেবে বিক্ষোভকারীরা : ইরান

কামরুল আহসান : ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ তিনদিকে গিয়ে ঠেকলো। দুদিন আগে শুরু হওয়া দ্রব্যমূল্য বিরোধী এ আন্দোলন ক্রমাগত আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সরকার-বিরোধী বিদ্রোহ হয়ে। শনিবার পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। অন্য দিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে সরকার পক্ষের লোকজনও। ফলে বিক্ষোভ রূপ নিচ্ছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং দ্বিমুখী সংঘর্ষে। সমগ্র দেশ জুড়েই একটি গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিচ্ছে। সরকার পক্ষ বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে জানিয়েছে, এ বেআইনি বিক্ষোভের ফল ভালো হবে না। এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা হুমকি দিয়ে রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, তাদের ভাইদের হত্যা করলেও তারা হত্যার প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হবে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে উত্তপ্ত প্রচারণা।
গত বুধবার দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে বা কারা এক প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার নাগাদ ইরানের বেশ কটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এ বিক্ষোভে জড়ো হয়। তাদের দমন করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে থাকে। এর মধ্যে সরকার পক্ষের লোকজন মাঠে নামলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। স্পষ্টতই তা দ্বিমুখী লড়াইয়ে রূপ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অবস্থা দেখে মন্তব্য করেন, ইরানের পরিস্থিতির উপর সারাবিশ্ব নজর রাখছে। যা খুশি তাই করতে পারবে না তারা। নিপীড়িত শাসক চিরকাল ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা। তার কথার উত্তরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এসব মন্তব্য সুযোগ সন্ধানী ও প্রতারণাপূর্ণ।
তৃতীয় দিন নাগাদ বিক্ষোভ ব্যাপকারে ছড়িয়ে পড়লে তা সত্যিই সরকারের জন্য আশংকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি সরকারি ভবন ভাঙচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত দুদিনে ৮০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের অনেকেই আহত। রাস্তায় পড়ে থাকা রক্তাক্ত বিক্ষোভকারীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে চাচ্ছে। ইরানের সামানে বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বৈষম্য এবং দুর্নীতিসহ অনেক গুরুতর সমস্যা রয়েছে। ২০০৯ সালেও একইরকম সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তখন সরকার তা কঠোরভাবে দমন করেছিল। তবে এবারের বিক্ষোভ কোন দিকে মোড় নেয় তাই এখন দেখার বিষয়। বিক্ষোভকারী এখন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও তার সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে। ফ্রান্স ২৪, বিবিসি, রয়টার্স

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত