প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরে দেখা বাংলাদেশ : বিজয়নীর অমলিন মুখ

অজয় দাশগুপ্ত : ঝটিকা সফরে দেখা বাংলাদেশ জেগে আছে মনে। এত কম সময়ে জন্মভূমি দেখা বা তাকে নিয়ে লেখাটা ঠিক নয় জেনেও বলি, তুমি পরিবর্তনের ছোঁয়ায় বদলে গেছো। এই পরিবর্তন কতটা দরকারী জানি না। তবে তার রূপ দেখেছি নানাভাবে।
মানুষের জীবন, জীবনবোধ চলমানতায় এসেছে পরিবর্তন। ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বা দেখাশোনা সহজতর হয়েছে বটে কিন্তু এখনো আগের মতো ভালোবাসার কোনো নির্জন বা সুস্থ পরিবেশ নেই। ডেটিং করার হোটেল থাকলেও নেই প্রেম করার পবিত্র কোনো স্থান। বদলে যাওয়া সমাজে হোটেল রেঁস্তোরার ছড়াছড়ি। সেগুলোতে ঢুকে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। কিন্তু খাবারের মান এখনো মানদ-ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। যেটা অবাক লেগেছে পোশাকও খাবারের বৈপরীত্য। খুলে যাওয়া নেট বা ডিজিটাল দুনিয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে পোশাক নিলেও খাবার নেওয়া হয়েছে বিদেশ থেকে মানে আমেরিকা ইউরোপ থেকে। পোশাক অনুযায়ী কাবাব বা গড়গড়া সেবনের কথা হলেও খাচ্ছি কিন্তু ক্যাপিচনো কিংবা ইতালিয়ান পিজজা।

এই বৈপরীত্য সব জায়গায়। আমি একুশ বছর সিডনিবাসে যেসব মদের নাম শুনিনি তার সবগুলোই অফার করা হয়েছে। এবং আমাকে প্রবাসী অপদার্থ বা পিছিয়ে পড়া মানুষ হিসেবে দেখা আধুনিকরা জানতে চেয়েছেন, মদ যদি না খাইত বিদেশে থেকে কি লাভ?
সমাজের উঁচু ও নীচু উভয়স্তরের মানুষের মনে পাপ পূন্যের ধারণা এখন আরেক ধরনের। দিনরাত তারা টাকার পেছনে ছুটছেন। কেউ বুঝতে পারছেন না কত হলে থামতে হয়। কতটা পেলে থেমে যেতে হয়। এ কারণে কেউ থামছে না। সংস্কৃতির মানুষরাও বেপরোয়া। পাওয়ার নেশায় সব হারিয়ে দেউলিয়া মানুষের মুখে শুধু কথা আর কথা। কাজ হারিয়ে কথার ভেতর ডুবে থাকা জাতির জীবনে এত বুদ্ধিজীবী অথচ একজনও দিকনির্দেশক নেই।

তারপরও জীবন চলছে। আমার মনে হয়েছে সাধারণ মানুষরাই অসাধারণ। তারা রাত জেগে দিনি কাজ করে দেশও জাতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এরা না শুনলে রাত দুপুরে চেঁচিয়ে টিভি মাথায় তোলা মানুষগুলো মূল্যহীন। এরা না থাকলে রাজনীতি মূলত অকেজো। কথিত নেতাদের এরা মানে বলেই তারা নেতা। নয়তো এরা আবর্জনা। সবচেয়ে বড় কথা মানুষ স্বপ্ন দেখে বলেই বাংলাদেশ এগোচ্ছে। পিছিয়ে টেনে ধরছে নোংরা রাজনীতি যার সাইনবোর্ড শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিলেও তার মন্ত্রী নেতারা ভয়ানকভাবে ব্যর্থ।

দেশের ওপরভাগে সব আওয়ামী লীগ, ভেতরে বিএনপি অন্তরে মূলত জামায়াত বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সবাই যে বলে সাম্প্রদায়িকতা বা বিদ্বেষ এটাও গুজব। উস্কে না দিলে বা লাগিয়ে না দিলে এগুলো নিয়ে মাথা ঘামায় না কেউ। জায়গা জমি নারী বা অন্য বিরোধগুলোর সঙ্গে হিন্দু যোগ হলে লুটপাট সহজ হয়, এই যা।সবকিছুর পরও এই একদেশ সকালে রবির কিরণে রবীন্দ্রনাথ মধ্যদিনে তেজী নজরুল বা বঙ্গবন্ধু রাতে চাঁদের আলোয় জননী এসে দাঁড়ায় শিয়রে। এর মায়া এর মোহ এর আবেগ কোথাও নেই। ধন্য আমি এদেশের সন্তান। ধন্য এই মাটি। এই নদী এত কিছুর পরও বহমান। চলমান বাংলাদেশে রাজনীতি অচিরেই মানুষের কাছে মার খাবে। আর তখনই তার আসল অগ্রযাত্রা শুরু হবে। এখনো তার মাথার ওপর সিন্ডিকেট। তখন থাকবে শুধুই জনগণ। এদেশের বিজয় সময়ের ব্যাপার। ইতিহাসও তাই বলে।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত