প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিতে রেকর্ড, প্রতারিত অভিবাসন প্রত্যাশীরা

জাকারিয়া হারুন : বাংলাদেশ ২০১৭ সালে জনশক্তি রফতানিতে রেকর্ড গড়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ বছর অভিবাসন বেড়েছে ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। তাদের বড় অংশ স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। উন্মুক্ত হয়নি নতুন কোনো শ্রম বাজার। এখনও বন্ধ হয়নি প্রতারণা, নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি অভিবাসন ব্যয়। খবর : পার্সটুডে

সম্প্রতি অভিবাসন বিষয়ক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি নিয়ে এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ৩১ হাজার ৮৩২ বাংলাদেশি কর্মী অভিবাসন করেছেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৯ জন। মোট ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৬২ জন কর্মী গেছেন সৌদি আরবে; যা মোট অভিবাসনের ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিবাসন প্রত্যাশীদের ১৯ ভাগই বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আর বিদেশে থাকা অবস্থায় প্রতারিত হয়েছেন ৩২ ভাগ। দালাল, আত্মীয় ও বন্ধু বান্ধবদের টাকা দেয়ার পরও বিদেশ যেতে পারেননি অনেকে। আবার বিদেশগামী কর্মীর পরিসংখ্যান সরকারের কাছে থাকলেও নেই ফেরত আসা কর্মীর তথ্য। তাই রেকর্ড সংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও বাড়েনি রেমিট্যান্স প্রবাহ।

এ প্রসঙ্গে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কর্মরত সংগঠন, ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, অভিবাসনের ক্ষেত্রে বেশি জনশক্তি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে সরকার। কিন্তু সার্বিকভাবে তা খুব একটা আশাপ্রদ নয়। বেশি মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেলেও কমেছে রেমিট্যান্স। প্রতারণার শিকার হয়েছেন কর্মীরা। বিশেষ করে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রতারণা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এছাড়া সরকার অভিবাসন ফি নির্ধারণ করে দিলেও মনিটরিং দুর্বলতার কারণে উচ্চমূল্য গুণতে হচ্ছে প্রত্যাশীদের। আর আইনের প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন আছে।

এ অবস্থায়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিবাসন ফোরামের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে পারে; কেননা বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিদেশে চাহিদা ও সুনাম আছে। সেইসঙ্গে অভিবাসন বাণিজ্যে যুক্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেন এ অভিবাসন বিশেষজ্ঞ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত