প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভ দেখছেন, ইসরায়েলে দেখছেন না কেন?

রাশিদ রিয়াজ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভের ব্যাপারে ফের এক টুইট বার্তায় বলেছেন, দেশটির জনগণ পরিবর্তন চায় এবং নিপীড়নমূলক সরকার চিরকাল টিকে থাকতে পারে না। এমন একদিন আসবে যখন ইরানের জনগণ তাদের সরকার নির্বাচন করবে।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, দুর্নীতি এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসানে ইরানের এ সরকারের চলে যাওয়ার সময় এসে গেছে।

মার্কিন নেতারা এমন এক সময় ইরান সম্পর্কে বক্তব্য দিচ্ছে যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ পঞ্চম সপ্তাহে পা দিয়েছে। কই তা নিয়ে কোনো বক্তব্য মার্কিন নেতারা কে দিচ্ছেন না। বরং ইসরায়েলি মিডিয়ায় খবর পাওয়া যাচ্ছে ইরানের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নাটকীয় সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং এক গোপন চুক্তি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইরানে এত বেশি নির্বাচন মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো চোখে দেখেনি। কই ট্রাম্প সৌদি আরবে যেয়ে বাদশাহ সালমানের সঙ্গে তরবারী নৃত্যের আগে দেশটিতে জনগণের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে নির্বাচনের পরামর্শ দেননি কেন। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে এবং তা ইয়েমেনে জাতিসংঘের অনুমোদনহীন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। কাতারের ওপর যখন অন্যায় ও অন্যায্য অবরোধ করে বসল তখন ট্রাম্প কি ধরনের টুইট বার্তা দিয়েছিলেন?

ফিলিস্তিন , ইয়েমেন এবং বাহরাইনের জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে কখনো ট্রাম্পকে টুইট বার্তা দিতে দেখা যায়নি। বরং কুয়েত দখল করতে ইরাককে প্ররোচনা কে দিয়েছিল, ইরাককে ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে কে প্ররোচনা দিয়েছিল তা আন্তর্জাতিক বিশ্বের অজানা নয়। বিশ্ব পরবর্তীতে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের পরিণতি দেখেছে। যদি ইরানের ব্যাপারে আন্তরিকভাবে ট্রাম্প টুইট করে থাকেন তাহলে ইসরায়েলের ব্যাপারে একই ধরণের আন্তরিকতার অভাব কোথায়? দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুকে কারাগারে পাঠানোর দাবিতে এ বিক্ষোভ হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন রকমের প্ল্যাকার্ডে শোভা পাচ্ছে ‘ক্রাইম মিনিস্টার’, ‘বিশ্বাসঘাতক-ইয়াহু’, ‘পরজীবী-ইয়াহু’, ‘দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ চায়’, ‘নো লেফ্ট, নো রাইট বাট অনেস্ট’। ইসরায়েলি মিডিয়া এসব ফলাও করে প্রচার করছে তারপরও ট্রাম্পের চোখে তা পড়ছে না!
বিক্ষোভে অংশ নেয়া রনি শেটার্ন বলেন, ‘যদিও আমি বিদেশে থাকি তবু এ বিক্ষোভে যোগ দেয়া গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি এবং এজন্যই আমি আমার সমর্থন প্রকাশের জন্য মিছিলে যোগ দিয়েছি। তিনি বলেন, দুর্নীতি হচ্ছে ইসরাইলি রাজনীতির প্রধান সমস্যা যা অবশ্যই দুর করতে হবে। শনিবার রাতে তেল আবিবের মতো একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে অধিকৃত বায়তুল মুকাদ্দাস, হাইফা ও আফুলা শহরে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়া, প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এরইমধ্যে আলাদা দুটি মামলায় তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপহারের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বিনিময়ে একটি পত্রিকায় ভালো কভারেজ দেয়ার জন্য পত্রিকার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে দেয়া। অন্যটি হচ্ছে- জার্মানি থেকে সাবমেরিন কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি। আর ট্রাম্প কি না সেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরানকে মোকাবেলায় এক গোপন চুক্তি করে বসেছেন!

ইরান নিয়ে প্রথম টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ জনগণের অধিকারের প্রতি ইরান সরকারের শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। বিশ্ব সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে।’ স্বভাবতই বিশ্ববাসীর কাছে এ প্রশ্ন উঠছে ইরানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের শ্রদ্ধা দেখিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ট্রাম্প গোপন চুক্তি করেছেন। কিংবা একই ধরনের শ্রদ্ধা দেখিয়ে আরব দেশগুলোর জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ জনগণের অধিকার ও নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প কেন কথা বলছেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত