প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ. লীগের দুর্গে দলীয় দ্বন্দ্ব বিএনপি মোড় ঘোরাতে চায়

ডেস্ক রিপোর্ট : সংসদীয় ১১৩তম আসন পটুয়াখালী-৩ গঠিত গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে। আসনটি আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু বিএনপিকর্মীদের বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী দিলে ইতিহাস ঘুরে যাবে। আওয়ামী লীগ মনে করছে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল না করলে ইতিহাস তাদের অনুকূলে থাকবে। এ আসনের মোট ভোটার দুই লাখ ৩০ হাজার ৭০৩।
আওয়ামী লীগ : বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে দল ক্ষমতায় গেলে তিনি বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, প্রার্থী করা হয় গোলাম মাওলা রনিকে। রনিও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

রনির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আবার ভাগ্য খোলে জাহাঙ্গীরের। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ফের নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর। স্থানীয় আওয়ামী লীগকর্মীদের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর ৫ জানুয়ারির অপ্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন ছাড়া এলাকার উন্নয়নে তেমন কোনো অবদান রাখেননি। নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং টিআর-কাবিখা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও করেন অনেকে। কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজ দলে বেশি সমালোচিত জাহাঙ্গীর। ১৫ আগস্ট গলাচিপা শহরে এমপির নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ে এবং গলাচিপা পৌরসভার মেয়র আহসানুল হক তুহিনের নেতৃত্বে পৌর ভবন চত্বরে শোক দিবস পালিত হয়। জাহাঙ্গীরের বিপরীতে ওই শোক দিবসের পাল্টা কর্মসূচিতে অংশ নেন এস এম শাহজাদা, কামরান সাইদ প্রিন্স মহব্বত ও হারুন অর রশিদ। তাঁরা সবাই দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি। এসব নেতা তাঁর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে একসময় পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। এসবের মধ্যেও জাহাঙ্গীর আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন লাভের চেষ্টায় গণসংযোগ করছেন দশমিনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শওকত। সাবেক এ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ২০০৯ সালে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তাঁকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন না দেওয়ায় আবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। দলীয় মনোনয়ন লাভে কয়েক বছর ধরে এলাকায় গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক কামরান সাইদ প্রিন্স মহব্বত। দুস্থ মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনে দান অনুদান দেওয়াসহ গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। ইতিমধ্যে দানশীল ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন মহব্বত। ভোটারদের নজর কাড়তে নানা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন মহব্বত। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার বোনের ছেলে এস এম শাহজাদা দলীয় মনোনয়ন পেতে দলের কার্যক্রম এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আওয়ামী লীগের সাফল্য নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনিও নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন বিভিন্ন এলাকায়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, গলাচিপা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও ওই উপজেলার সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটো, দশমিনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ওই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল আজিজ মিয়া এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। রনি ছাড়া অন্য প্রার্থীরা এলাকায় যে যাঁর মতো করে গণসংযোগ করছেন।

দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী আমির হোসেন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ওয়ান ইলেভেনের সময় নেত্রী সম্পর্কে যেসব অপপ্রচার করেছেন সব নেতাকর্মী জানে। তিনি লুটপাটও করেছেন। তাঁকে প্রার্থী করা হলে দলে বিপর্যয় নেমে আসবে। ’ আওয়ামী লীগ নেতা ও গলাচিপা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, ‘লুটপাট ছাড়া কিছুই দিতে পারেননি জাহাঙ্গীর। ’ তবে গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ কুমার দে বলেন, ‘নির্বাচন এলে আর নৌকার স্লোগান শুনলে সব বিরোধের অবসান হবে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। তাঁর বিকল্প কোনো নেতা এখন পর্যন্ত দেখি না। ’

বিএনপি : বিএনপি সংসদের এ আসনে কখনোই জেতেনি। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ যোগ্য নেতৃত্ব না থাকাকেই দায়ী করেন। তবে এবার বিএনপির নেতাকর্মীরা ভালো ফলাফলের স্বপ্ন দেখছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে নিয়ে। চলছে তাঁর গণসংযোগও। সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও মামুন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সবাই ঝুঁকে পড়েছে তাঁর দিকে। এ ছাড়া এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাজাহান খান, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ইসহাক মিয়া। দলীয় প্রার্থিতা লাভের আশায় এরাও পৃথকভাবে এলাকায় গণসংযোগ করছেন। দশমিনা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ফখরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং হাসান মামুন মনোনয়ন পেলে ইতিহাস পাল্টে দেবে বিএনপি। ’ গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইতিপূর্বে যাঁরা এ আসনে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরা সবার সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে চাঙ্গা করতে পারেনি, যা মামুন সাহেব করেছেন। কিন্তু হাসান মামুন সেটি করে দেখিয়েছেন। তাঁকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ের ব্যাপারে আমরা এ আসনে ইতিহাস সৃষ্টি করব। ’

শাসনতন্ত্র আন্দোলন : স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, ওই আসনে চরমোনাই পীরের বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ভোট রয়েছে। গলাচিপা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে। আমরা মাঠে কাজ করছি। ’ কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত