প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোট ছাড়তে একাট্টা আ.লীগ আশাবাদী বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনটি ২১ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই আসনে ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৭। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৮ এবং পুরুষ ১ লাখ ৬২ হাজার ২৫৯। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একডজনের বেশি নেতা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবার জোটকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন পেতে একাট্টা আওয়ামী লীগ। দলটি জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। এদিকে তৃণমূলে কোন্দল থাকা সত্ত্বেও আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপি।

বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোয় এই আসনে আওয়ামী লীগ তিনবার, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) তিনবার, বিএনপি দুইবার, জাতীয় পার্টি (নাফি) একবার ও ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) একবার জয়লাভ করে।

২০০৮ সালে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আয়কর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন বিএনপির প্রার্থী মরহুম কাজী আনোয়ার হোসেনের চেয়ে ৪৭ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি ১৪ দলীয় জোট থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান। তবে পরে ছাড় দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পপতি ফয়জুর রহমান বাদল জয়ী হন। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকায় তেমন একটা আসেন না। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তাকে নিয়ে রয়েছে ক্ষোভ। এ ছাড়া একাধিক গ্রুপে বিভক্ত আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে নবীনগরে বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম কাজী আনোয়ার হোসেনের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় তার ছেলে জেলা বিএনপির সদস্য কাজী নাজমুল হোসেন তাপস আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে মাঠে কাজ করছেন। তবে তাকে মেনে নিতে পারছে না দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীসহ বিএনপির একাংশ। বর্তমানে দলে প্রকাশ্যে কোন্দল বিরাজ করছে। দলটির একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম। তিনি ছাত্রজীবন থেকে নবীনগরের সর্বত্র চষে বেড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। ২০০১ সালে লীরা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী শিল্পপতি এমকে আলমগীর ইকবালকে জোটের স্বার্থে মনোনয়নে ছাড় দিয়েছিল। এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয়ভাবে জসিমের পক্ষে জোর লবিং রয়েছে বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট মজিবুর রহমানের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, তায়কোয়ান্ডো ফেডারেশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপক নূরন্নাহার বেগম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক আলামিনুল হক আলামিন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক সাঈদ।

বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মো. জসিম, বিএনপির নেতা ও লীরা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী কেএম আলমগীর ইকবাল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েন সূর্যসেন হল ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস মো. সায়েদুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের সহকারী মহাসচিব আলী আজম জালাল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, সাবেক সাংসদ মরহুম কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও জেলা বিএনপি নেতা কাজী নাজমুল হোসেন (তাপস)।

১৪ দলীয় জোট থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী জাসদের (ইনু) সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও শিল্পপতি কাজী মামুনুর রশিদ। তিনি এলাকায় দলীয় কর্মকা-ে ব্যস্ত রয়েছন।

ইসলামী ঐক্যজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা মেহেদী হাসান।

আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নবীনগরবাসী আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হলে এই আসনে জয়ের আশা করছে বিএনপিও। তবে মনোনয়ন প্রশ্নে বিএনপিতে কোন্দল চলছে প্রকাশ্যে। আওয়ামী লীগের কোন্দল থাকলেও তা ততটা প্রকাশ্যে নয়। আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত