প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সালতামামি ২০১৭-
২০১৭ সালে যতো প্রাপ্তি ক্রিকেট আর নারী ফুটবলে

এল আর বাদল : চলতি বছরে (২০১৭) খেলাধুলায় যতো অর্জন তার প্রায় পুরোটাই ক্রিকেটকে ঘিরে। ফুটবল এ দেশের জনপ্রিয় খেলা হলেও বছর শেষে উল্লেখ করার মতো পুরুষ ফুটবলে ইতিবাচক তেমন কিছু নেই। ফিফার সর্বশেষ ঘোষিত র‌্যাংকিংয়ে পুরুষ ফুটবলের অবস্থান ১৯৭তম। এই কদিন আগে খবরটা পেয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। অথচ নারী ফুটবলে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। র‌্যাংকিংয়ে ওপরের দিকে উঠছে, আর মাঠেও দারুণ কিছু সাফল্য পেয়েছে তারা। বিশেষ করে বছরের শেষটা রাঙিয়ে দিয়েছে মেয়েরা, সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতে।
শুধু এই আসরেই নয়, এর আগে বছরের শুরুতেও নারী জতীয় দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিল। গত জানুয়ারিতে শিলিগুড়িতে ভারতের কাছে যদিও শিরোপা হাতছাড়া করেছিল তারা। জাতীয় দল ভারতকে হারাতে না পারলেও বাংলাদেশের কিশোরীরা ঠিকই দেশকে সাফল্য এনে দিয়েছে।
এবছর কিছুটা ব্যর্থতাও ছিল। গত সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে আসরের মূল পর্বে বাংলাদেশ তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরেছিল। উত্তর কোরিয়ার কাছে ৯-০, জাপানের সঙ্গে ৩-০ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপে ৩-২ গেলে হেরে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে শক্তিশালী এই দলগুলোর সঙ্গে মূল পর্বে খেলাটাও কম ছিল না বাংলাদেশের জন্য।

অবশ্য এই ব্যর্থতার বাইরে সাফল্যও ছিল নারী দলের, তার প্রমাণ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি। যেখানে পুরুষ দলের র‌্যাংকিং ২০০ ছুঁই ছুঁই, সেখানে মেয়েদের র‌্যাংকিং সেরা ১০০তে। এদিকে দাবায় বড়দের সাফল্য না থাকলেও সম্প্রতি যুব অলিম্পিয়াডে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের ফরহাদ।

ক্রিকেটে বিশ্ব এক নতুন বাংলাদেশ দেখেছিল ২০১৫ সালে। সে বছর অসাধারণ কিছু সাফল্য দিয়ে সারা দুনিয়াকে রীতিমতো অবাক করে দিয়েছিল লাল-সবুজের দল। সে ধারাবাহিকতা ছিল ২০১৬ সালেও। ২০১৭ সাল ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোই রয়েছে। এবছর বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি সিরিজ ও টুর্নামেন্ট খেলেছে। তবে শেষ দিকের কিছু ব্যর্থতা বাদ দিলে অর্জনটাই বেশি মাশরাফি-সাকিবদের।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ নয়টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে দুটি টেস্ট জিতেছে, হেরেছে সাতটি ম্যাচ। অঙ্কের হিসাবে এই সাফল্য কমই। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য দুটি টেস্ট জয় ছিল অনেক বড় সাফল্য। বিশেষ করে গত মার্চে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপে ঐতিহাসিক শততম টেস্টে চার উইকেটে জয় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিশাল অর্জন।

এরপর আগস্টে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপে টেস্ট জয় আরেকটি ইতিহাস রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। দুর্দান্ত প্রতাপশালী অস্ট্রেলিয়াকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২০ রানে হারিয়ে ছিল মুশফিকবাহিনী, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল দারুণ একটি মাইলফলক। টেস্টে বাংলাদেশের এ দুটি সাফল্য অন্যসব ব্যর্থতাকে একেবারেই ঢেকে দিয়েছে। তবে সাফল্য না হলেও টেস্টে বাংলাদেশের আরেকটি অর্জন ছিল। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর কোনো সিরিজ খেলতে ভারত সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ভারতে হায়দরাবাদে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ ২০৮ রানে হেরেছিল।
ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের ঝুলিতে ছিল দারুণ কিছু অর্জন। বছরের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ শুরু করেছিল জয় দিয়ে। এ বছর মার্চে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে হারিয়েছিল মাশরাফিরা। সে ধারাবাহিকতা বছরজুড়ে না থাকলেও ১৪টি ওয়ানডে খেলে চারটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। তবে এ বছর ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল, কয়েকটি পরাশক্তি দলকে টপকে মে-জুনে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠে লাল-সবুজের দল। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সাফল্য বললে ভুল বলা হবে না।
তার আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দুটি ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপে প্রথম জয় পেয়েছিল আট উইকেটে এবং সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপে ৫ উইকেটে জেতে মাশরাফির দল। এই সফল্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বেশ কাজে আসে।

বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে একেবারেই নাকাল ছিল বাংলাদেশ দল। তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরেছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুনতে হয় ক্রিকেটারদের। টি-টোয়েন্টিতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সাতটি ম্যাচ খেলে। এর মধ্যে ছটিতেই হেরেছে, আর জয় পায় মাত্র একটি ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার বিপে গত এপ্রিলে সে ম্যাচে ছয় উইকেটে জিতেছিল মাশরাফির দল। এই সিরিজের পরই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে যান অধিনায়ক মাশরাফি।

মাশরাফির অবসর এ বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তবে কী কারণে হঠাৎ তিনি অবসরে যান, সেটা জানা যায়নি। এর পর এই নভেম্বরে দলের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তিনি এখন শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের কোচ। বছরের শেষ দিকে এসে এই ডিসেম্বরে অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। তার জায়গায় আবার অধিনায়ক হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত