প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের লোক সভায় তিন তালাক বিল পাস: বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের মতামত

হুমায়ুন আইয়ুব : ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ লোকসভায় পাস হয়েছে তিন তালাক বিল। তাৎক্ষণিত তিন তালাক প্রদানকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। আইনটির বিরোধিতা করছে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেস ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। তাদের দাবি, এ আইন ইসলামি শরিয়া বিরোধী। এতে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

ভারতের লোকসভায় তিন তালাক বিরোধী বিলটি নিয়ে মতামত জানিয়েছেন বাংলাদেশের শাইখ যাকারিয়া মাদরাসার পরিচালক ও মুফতি মিজানুর রহমান। আমাদের অর্থনীতি প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ইসলামে একসঙ্গে তিন তালাক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে ইসলামি শরিয়া মতে একসঙ্গে কেউ তিন তালাক দিলে তা কার্যকর হয়ে যাবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাহাবায়ে কেরাম ও তাদের অনুসারীরাসহ আজ পর্যন্ত ইসলামের চার মাযহাবে এ বিষয়টি সর্ব স্বীকৃত। তবে যারা একসঙ্গে তিন তালাক দিয়ে দেয় এটা তারা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে দেয়। তালাক ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বৈধ কাজ।

ইদারাতুল উলুম আফতাব নগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও প্রধান মুফতি মুহাম্মদ আলী বলেন, ইসলামে তিন তালাকের মাধ্যমে দাম্পত্ত জীবনের অশান্তি থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তালাক প্রথার মাধ্যমে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে ইসলাম। তবে তা হতে হবে শরিয়ার বিধান অনুযায়ী। স্বামী স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক বিচ্ছেদের প্রয়োজন হলে প্রথমে এক তালাক দিয়ে সতর্ক করতে হবে ও মিমাংসার চেষ্টা করতে হবে। তাও সম্ভব না হলে পরবর্তী মাসে দ্বিতীয় তালাক দিবে। এর মাধ্যমেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তখন তিন তালাক দেওয়া হবে। এটি ইসলামি শরিয়ার উত্তম পদ্ধতি ও সর্বসম্মত আইন। তবে কেউ যদি একসঙ্গে তিন তালাক দিয়ে দেয় তাও কার্যকর হয়ে যাবে তবে তালাকদাতা গোনাহগার বলে সাব্যস্ত হবে।

তবে লোকসভার তিন তালাক বিলটি মুসলিম সমাজ ধ্বংস করার জন্য পাস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ড। মুসলিম পার্সনাল ল’ বোর্ডের শীর্ষ নেতা মাওলানা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি ভারত সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার মুসলিম জনগণ দ্বারা কারাগার ভর্তি করার জন্য এ বিল পাশ করেছে। এতে মুসলিম সমাজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

তিনি বলেন, সরকার যেভাবে তাড়াহুড়া করে বিল পাশ করেছে তাতে সরকারের উদ্দেশ্য বোঝা যায়। সরকারের উচিৎ ছিলো ন্যায় ও সততার সঙ্গে কাজ করা এবং আইন পাশ করার আগে মুসলিম স্কলার ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা।

মাওলানা সাজ্জাদ নোমানি রাজ্য সভাকে আহবান জানিয়েছেন যেনো এ বিল পাশ করা না হয়। তিনি বিলটি নির্বাচিত কমিটির কাছে প্রেরণের দাবি জানিয়ে বলেন, বিয়ে একটি সামাজিক বিষয়। সুতরাং তার সমাধান নিজস্ব উপায়ে সমাধান করতে হবে। ক্রিমিনাল অ্যাক্ট দিয়ে তার সমাধান হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত