প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই কোন সৌদি আরব…

সৈয়দ রশিদ আলম : সদ্য সমাপ্ত ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, পূর্ব জেরুজালেম হবে ফিলিস্তিনের রাজধানী। সকল মুসলিম বিশ্বের সরকার প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধানরা তুরস্কের রাজধানী আংকারায় এই শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন। মুসলিম বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে এই শীর্ষ সম্মেলনে একমাত্র সৌদি আরব এর কোন শীর্ষ নেতা অংশ গ্রহণ করেননি। সৌদি আরবের বাদশা, যুবরাজ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রী কেউই এই শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। উপস্থিত না থাকার কোন ব্যাখ্যাও তারা দেননি। যা বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। এরই মধ্যে ইসরাইল সরকার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ইসরায়েল সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। গত সপ্তাহে বাহারাইনের একটি সরকারের প্রতিনিধি দল ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল সফর করেছে। যার ফলে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিভুক্তি চূড়ান্ত রূপ লাভ করল। কিছু মুসলিম দেশ ইসরায়েলকে বর্জন করছে আর কিছু মুসলিম দেশ ইসরায়েলের সাথে প্রকাশ্যে সু-সম্পর্ক তৈরি করছে, যেমন- সৌদি আরব, বাহারাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও মিশর।

যেকারণে ফিলিস্তিনিরা অনেকটাই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। তারা তাদের একাধিক মিত্র দেশকে হারিয়েছে। এই মিত্র দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি রাখার স্বার্থে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার দিকে মনযোগ দিয়েছে। তারা জানেন যতদিন ইসরায়েলের সাথে তাদের সুসম্পর্ক থাকবে ততদিন তাদের অবৈধ রাজতন্ত্র বজায় থাকবে। উল্লেখিত দেশের স্বৈরাচারী রাজা ও আমিররা গণতন্ত্র কী তা জানেন না, জানেন শুধু কিভাবে প্রভুর দাসত্ব করতে হয়। এই প্রভু সৃষ্টিকর্তা নয়, এই প্রভু হচ্ছে বিশ্ব সন্ত্রাসের মহানায়ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যে কারণে মুসলিম বিশ্বের বিভক্তির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে একতরফা ভাবে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার সাহস পেয়েছেন। বাস্তবতা হচ্ছে, এই জেরুজালেম সবসময় ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেখানে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা শান্তিতে বসবাস করতে পারতেন কিন্তু যখন থেকে ইসরায়েলের দখলে জেরুজালেম চলে গেল তখন থেকে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের দুদর্শা বেড়ে গেছে। ফিলিস্তিনিরা সবসময় আশা করেছিল মুসলিম বিশ্ব সবসময় তাদের পাশে থাকবে। কিন্তু তা কখনো হয়নি।

সৌদি আরবের সাবেক বাদশা ফয়সল যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন ততোদিন তিনি ফিলিস্তিনিদের পাশে ছিলেন কিন্তু গত ৩০ বছর থেকে সৌদি আরবের শাসকরা ফিলিস্তিনিদের পরিত্যাগ করে ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। যার ফলে মুসলিম বিশ্বের কাছে সৌদি আরবের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। ফিলিস্তিনবাসী দেখেছেন তাদের দুদর্শার সময় বন্ধু তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক থাকলেও উল্লেখিত রাজতান্ত্রিক মুসলিম দেশ তাদের পাশে নেই। যে কারণে বিশ্ব সন্ত্রাসের নায়ক ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের উপর অত্যাচার করার সাহস পেয়ে গেছে। যতদিন পর্যন্ত মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ না হবে ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার ইসরায়েলকে দমন করা যাবে না এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্দশাও শেষ হবে না।

লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত