প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীদের পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও হিজাব

সাইফুর সাগর : সম্প্রতি আমার চেনা জানা একটি মেয়ের চাকুরীর সাক্ষাৎকার থেকে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে, হিজাবি পাসপোর্ট সাইজ ছবিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমিও বেপারটির সাথে সম্পূর্ণ একমত কারণ, ধার্মিক অনুভূতির হিজাব পরিধান ও বর্তমান স্টাইলি হিজাবের উদ্দেশ্য, সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করে। গত পরশু পত্রিকায় পড়লাম, জনৈক ছাত্রীকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে ছবিতে হিজাব পরিহিত দেখে। এখানে ধর্মীয় অনুভূতি আর হিজাবি ছবি পরিধানকৃত ছবির বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই। যে কোনো চাকুরী, পরিচয়পত্র, ভিসা, পাসপোর্ট আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজাদিতে ছবির ব্যবহার একটি অন্যতম প্রমাণ স্বরূপ অপরিহার্য্য করা হয়।

ঢঙ্গি টাইপের কিছু মেয়েরা হিজাব পরিধানকে এতো বেশি রঞ্জিত অবস্থানে নিয়ে গেছে যে, মাঝে মাঝে টয়লেটে গেলেও মনে হয় হিজাব পরে যায় ( অনুভব করছি)। আমার কোম্পানিতে আমি যাকে চাকুরী দেবো, আমার জানার দরকার চাকুরী প্রার্থীর চোখ, কান, চুল সব সঠিভাবে আছে কিনা। তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তার প্রেরিত ছবির সাথে তার সঠিক মিল রয়েছে কিনা কারণ, হিজাবের ছবিতে যা দেখছি, বাস্তবতায় তার সাথে কোনো মিল খুঁজে পাবো না, তা মোটেও উচিত নয়। মাথায় হিজাব পড়লেই পর্দা হয় না, মননে ও চরিত্রে পর্দা দিতে হয়।

একটা নারী ইচ্ছে করলে হিজাবসহ-ই যা মন চায় তাই-ই করতে পারে, মনন ঠিক থাকলে হিজাব ছাড়াই সঠিক পথে চলা যায়। নারীর চরিত্র সে নিজে এবং সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারোর বোঝার ক্ষমতা নেই, তদপুরী পুরুষের ক্ষেত্রেও একই। শুধুমাত্র মনের শুদ্ধতাই একটা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারে, কোনো পোশাকে নয়। আমাদের সমাজে অবশ্যই ধর্মীয় অনুভূতির আলোকে পূর্ণ শরিয়াভিত্তিক হিজাবি নারী আছে, তাদের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধা রইলো। যারা হিজাব না পরেও সঠিক পথে থাকে তাদের প্রতিও সমানভাবে শ্রদ্ধা। ‘বুক ফুলিয়ে হিজাব নয়, মননেই সব শুদ্ধ হয়’।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট
সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত