প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : শীতার্ত মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। আল্লাহর ইচ্ছায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই ঋতুর পালাবদল ঘটে। প্রচন্ড শীতের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য হতদরিদ্র অনেক মানুষেরই নেই ন্যূনতম শীতবস্ত্র, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধপথ্য, উপযুক্ত আশ্রয় বা বাসস্থান।

হাঁড়-কাঁপানো শীতে ছিন্নমূল অসহায় মানুষদের খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত মোকাবিলা করতে হয়। তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শীত বস্ত্র সরবরাহ করে সাধ্যমতো শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাই সবার প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

যার অন্তরে দয়া মায়া আছে, যে পরোপকারী আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবী (দ:) বলেছেন,“তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা করো এবং বন্দীকে মুক্ত করো অথবা ঋণের দায়ে আবদ্ধ ব্যক্তিকে ঋণ মুক্ত করো” (বুখারী শরীফ)। নিঃস্বার্থভাবে বিপদগ্রস্থ মানুষের সাহায্য ও সেবা করাই মানবধর্ম। এ মহৎ ও পুণ্যময় কাজই সর্বোত্তম ইবাদত। অসহায় মানুষের সাহায্য, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মনমানসিকতা যাদের নেই, তাদের ইবাদত বন্দেগী আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

সুতরাং নামাজ, রোজার সঙ্গে কল্যাণের তথা মানবিকতা ও নৈতিকতার গুণাবলী অর্জন করা জরুরী। এ সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, “পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কোন পুণ্য নেই, কিন্তু পুণ্য আছে কেউ আল্লাহ, পরকাল, ফেরেস্তাগণ, সব কিতাব এবং নবীদের প্রতি ঈমান আনয়ন করলে এবং আল্লাহর প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, পর্যটক সাহায্য প্রার্থীদের এবং দাস মুক্তির জন্য অর্থদান করলে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করলে ও যাকাত প্রদান করলে এবং প্রতিশ্রæতি দিয়ে তা পূর্ণ করলে, অর্থ সংকটে দুঃখ-ক্লেশে ও সংগ্রাম সংকটে ধৈর্য ধারণ করলে। এরাই তারা, যারা সত্যপরায়ণ এবং তারাই মুত্তাকি।’(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭৭)।
মানুষকে ভালোবাসলে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ পায়। মহানবী (দঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি সদয় ্ও সহানুভূতিশীল নয় তার উপর আল্লাহ তায়ালা কোন অনুগ্রহ করবেন না। অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষকে ভালোবাসে না তাকে আল্লাহ তায়ালাও ভালোবাসে না। অন্য হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উদার ও দয়ালুদের প্রতি দয়াবান দয়া করে থাকেন। তোমরা পৃথিবী বাসীকে দয়া কর, ভালোবাস। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দয়া করবেন, ভালোবাসবেন। (তিরমিজী ও মিশকাত শরীফ)।
অন্য হদীসে আছে“মানুষের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি তিনি যিনি মানুষের কল্যাণ করেন” হযরত নুমান ইবনে বশীর (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসুল(দঃ) বলেন, সব মুমিন এক অখন্ড ব্যক্তির মতো । যদি কোনো ব্যক্তির চক্ষুা ব্যথা হয় তবে তার সর্বাঙ্গ ব্যথিত হয়। যদি তার মাথায় ব্যথা হয় তখন সর্বাঙ্গ ব্যথিত হয় (বুখারি ও মুসলিম শরীফ)।

ইরশাদ হচ্ছে, “সমস্ত” সৃষ্টি জগৎই হলো আল্লাহর পরিবার। এ পরিবারের সদস্যদের যে যত বেশি উপকার করবে সে তত বেশি আল্লাহ তায়ালার প্রিয় পাত্র হবে। (তিরমিজী শরীফ)। এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, সব সৃষ্টিজীবই হলো আল্লাহর পরিবারের সদস্য। আর এ সব সদস্যদের মধ্যে মানুষ হলো শ্রেষ্ঠ। তাই মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য জীবদের অধিকারও সংরক্ষণের জন্য দয়াল নবী (দঃ) পার্থিব জগতে আল্লাহর করুণা লাভ ্ও পরকালে বেহেশত লাভের আশ^াস দিয়েছেন।

তীব্র শীতের প্রকোপ নিদারুণ কষ্ট ও দুঃসহ অবস্থায় পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে দেশের অগণিত দুস্থ, নিঃস্ব, ছিন্নমূল, গরীব, দুঃখী বস্ত্রহীন শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ। শীত জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন সু-চিকিৎসা ও ওষুধপথ্য এবং শীত মোকাবিলায় সরকারী-বেসরকারী কার্যকর উদ্যোগ । জাতি-ধম-বর্ণ দলমত নির্বিশেষে বিত্তবানদের শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই প্রয়োজন। নবী করিম (দ:) পরকালীন পুরষ্কার প্রাপ্তির কথা ঘোষণা করেছেন “এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে কাপড় দান করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের পোশাক দান করবেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দান করলে আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফলদান করবেন। কোন মুসলমানকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি পান করালে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সিলমোহরকৃত পাত্র থেকে পবিত্র পানি পান করাবেন।’ (আবু দাউদ শরীফ)। দুর্যোগময় মুহুর্তে আর্তমানবতার সেবায় সাহায্যের হাত বাড়ানো খাদ্য, ওষুধপথ্য, শীতবস্ত্র এবং গরম কাপড়, প্রয়োজনে জরুরী ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিপদগ্রস্থদের পাশে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শৈত্য প্রবাহ সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আল্লাহ তায়ালা ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করেন, আর দেখেন বিপদগ্রস্থ অসহায়দের জন্য কারা সাহায্য সহযোগীতার হাত বাড়ান।
যাদের মাথা গোঁজার ঠাই নেই তাদের দুরবস্থায় সর্বাধিক সে কথা বলাই বাহুল্য। হাড় কাঁপানো শীতে যে বিপুল জনগোষ্ঠী বর্ণনাতীত দুঃখ কষ্টে দিন যাপন করে তাদের পাশে দাঁড়ানো ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুলে পাক (দ:) বলেছেন,যে ব্যক্তি কোন মুমিনের পার্থিব একটি মুসিবত দূর করবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার মুসিবত সমূহ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোন অভাবী মানুষকে সচ্ছল করে দিবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ইহকালও পরকালে সচ্ছল করে দিবেন এবং আল্লাহপাক বান্দার সাহায্য করবেন যদি বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য করে। (মুসলিম শরীফ)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত