প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোমর বেঁধে নেমেছেন হাথুরু

স্পোর্টস ডেস্ক : সময় মানুষকে কত দ্রুত বদলে দেয়! এই মাস তিনেক আগেও যে মানুষটি মাশরাফি-সাকিবদের সফলতার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতেন, সেই একই ব্যক্তি এখন তাদের হারানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। বলছি চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কথা। বাংলাদেশ ছেড়ে শ্রীলংকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম মিশনই বাংলাদেশ সফর। সঙ্গত কারণেই সফরটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন হাথুরু। সে চ্যালেঞ্জে সফল হতে কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারদেরও ডেকে আনছেন সাহায্যের জন্য।

বাংলাদেশের কোচ থাকার সময়ও নিয়ম-শৃঙ্খলার ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দিতেন না হাথুরু। শ্রীলংকা গিয়ে তিনি আরও কঠোর হয়ে গেছেন। প্রথম দিনের অনুশীলনেই ঘোষণা দিয়েছেন, কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। অনুশীলনে মিউজিক নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। ক্রিকেটারদের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন। স্কোয়াড ও একাদশ নির্বাচনে কেউ যেন নাক না গলায়, সেটাও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন তিনি। শ্রীলংকা দলের সময়টা এখন বেশ খারাপ যাচ্ছে। ২০১৭ তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য বছর। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৫৭টি ম্যাচের ৪০টিতেই হার, জয় মাত্র ১৪টি। এ বাজে সময় থেকে উদ্ধার করতেই লংকান বোর্ড হাথুরুর শরণাপন্ন হয়েছে। আর হাথুরুও দায়িত্ব নিয়েই বলে দিয়েছেন, শৃঙ্খলার ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর হবেন তিনি। সেইসঙ্গে এখন থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও শুরু করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এত কড়াকড়ি দেখে শ্রীলংকার গণমাধ্যমকর্মীরা অনেকটা মজা করেই হাথুরুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, অনুশীলনে ক্রিকেটাররা মিউজিক শুনতে পারবেন কি-না? প্রশ্নটা ঠাট্টাছলে এলেও হাথুরু জবাব দিয়েছেন ভীষণ কড়াভাবে, ‘কেউ যদি অনুশীলনে মিউজিক শুনতে চায়, তাহলে সে যেন ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি চলে যায়।’ শ্রীলংকান ক্রিকেটের সুসময় ফেরাতে তিনি মরিয়া হয়ে কাজে নেমেছেন। প্রথম দিনের অনুশীলনেই তার সঙ্গে ছিল একজন ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানী। তার নাম ফিল জোন্সি, বাংলাদেশেও এ অস্ট্রেলিয়ানকে নিয়ে এসেছিলেন হাথুরু। লংকান কিংবদন্তিদেরও সহায়তা চেয়েছেন তিনি, ‘কুমার সাঙ্গাকারার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

এ কারণেই সাহায্য করার করার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। যদি আমি তার সাহায্য না চাই, তাহলে তো আমিই সুযোগ হাতছাড়া করব। আর শুধু সাঙ্গা নয়, মাহেলা জয়াবর্ধনে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের কাছেও সাহায্য চাইব। আশা করছি তারাও দলের সঙ্গে কাজ করবে। তারা যখনই সময় পান, তখনই যেন আসেন সে ব্যবস্থা আমরা করে নেব।’ বাংলাদেশ সফর নিয়েও লংকান মিডিয়ার অনেক আগ্রহ। সে ব্যাপারেও কথা বলেছেন হাথুরু, ‘বাংলাদেশের আবার আমার ফেরা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমরা নিজেদের সেরাটা খেলতে পারছি না। আর বাংলাদেশ গত দুই বছর ধরে নিজেদের মাটিতে শক্তিশালী দল। তাই আমাদের জন্য সফরটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত