প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্মী সেনাদের নির্যাতনও ঠেকাতে পারেনি সাদ্দাম-শফিকার মিলন

ডেস্ক রিপোর্ট : রাখাইনের অধিবাসী সাদ্দাম হোসেন ও শফিকা বেগম সম্পর্কে এখন স্বামী-স্ত্রী। চলতি বছরের আগস্টে বর্মী সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞ তাদের এই মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। সম্প্রতি কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিয়ে হয় তাদের।

পারিবারিকভাবেই নিজ দেশে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু বিয়ের আগেই সবকিছু এলোমেলো করে দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা চালালে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। এর ফলে ৮ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

রয়টার্স জানায়: অন্যদের সঙ্গে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় সাদ্দাম ও শফিকা। দুই সপ্তাহ বিচ্ছিন্ন থাকার পর ক্যাম্পে আবার তাদের দেখা হয়। এর তিন মাস পর বিয়ে হলো তাদের। নিজেদের দেশ থেকে বিতাড়িত হলেও বিয়েতে আয়োজনের কমতি ছিল না। বিয়ের সাজ, অতিথিদের খাওয়ানো, নাচ, গান সব ছিল বিয়েতে। অতিথির উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিয়ের আগের রাতেই একটি গরু জবাই করা হয় অতিথিদের জন্য।‘‘শফিকাকেও সাজানো হয়েছিল সুন্দর করে। দুই হাত ঢাকা ছিল রাঙা মেহেদিতে। সাদ্দামের সুন্দর পোষাকেও ছিল মিষ্টি সুগন্ধি। বিয়ের আগে দু’জনকে আলাদা আলাদা রঙিন বেদিতে বসানো হয়েছিল। তাদের ঘিরে আনন্দ উদযাপনের কমতি ছিল না। এই দিনটিই সাদ্দাম-শফিকার জন্য সবচেয়ে সুখের দিন। পৃথিবীর সব দম্পতির জন্যই হয়তো তাই। কিন্তু সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো সাদ্দাম ও শফিকার দেশ নেই, তাদের বিয়ে হলো শরণার্থী ক্যাম্পে।’’

বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেও তারা এই জনাকীর্ণ ক্যাম্পে কেমন বোধ করবে তা সহজেই অনুমেয়। সাদ্দাম বলেন: আমরা সন্তানের জন্য অপেক্ষা করবো, কিন্তু তার আগে জানা দরকার আমরা কি এখানেই থাকছি নাকি মিয়ানমার যাচ্ছি। আমাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া হলে আমরা অবশ্যই সেখানে ফিরবো।’’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।

৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাদ্দামের দোকান
সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় হাজারখানেক মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

সেনাবাহিনীর হামলা ও সহিংসতার মাত্রার ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘ একে ‘পাঠ্যবইয়ে যোগ করার মতো জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।

সূত্র : চ্যানেলআই অনলাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত