প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমি কাউন্সিলর, বেডরুম কেন বাথরুমেও ঢুকতে পারি’

ডেস্ক রিপোর্ট : যশোরের চৌগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষকে তার বাসার বেডরুমে প্রবেশ করে স্ত্রী-সন্তানসহ পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম মোস্তফা সেই অধ্যক্ষের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সেই অধ্যক্ষ।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় চৌগাছা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চৌগাছা পৌর এলাকার নব কিশলয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছুদিন যাবৎ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা স্কুলটি চালাতে হলে তাকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করে আসছিল। গত ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আমার স্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলেন। আমি এবং সহকারী শিক্ষক ফরহান যশোর থেকে স্কুলের আসবাবপত্র কিনে বাড়ি এসে পৌছলে কাউন্সিলর মোস্তফা, তার সঙ্গী শিমুল হোসেন, ফারুক হোসেন, হিরাসহ চাঁদার দাবিতে আমার বাড়ি এবং স্কুলে ঢুকে। পরে বেডরুমে ঢুকে লোহার রড এবং বাঁশ দিয়ে আমাকে মারতে থাকে। এসময় আমার স্ত্রী ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া এবং ছেলে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজ্জাদ ইশতিয়াক ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিট করে। আমাদের চিৎকারে স্কুলের সহকারী শিক্ষক ফারহান আহম্মেদ এবং শিক্ষার্থীরা দোতালায় আসলে শিক্ষক ফারহান, শিক্ষার্থী পিয়াস (১০), ফরহাদ (১০), সাগর (৯), তন্ময়সহ (৯) আরও কয়েকজনকে মারপিট করে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, কাউন্সিলর মোস্তফার নির্দেশে তার সঙ্গীরা স্কুলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আমার শার্টের পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। বাকি টাকা ৩০ তারিখে নিতে আসবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি বৃহস্পতিবার চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি। যার নম্বর ১৮।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ বলেন, এদের মধ্যে আসামি হিরা চৌগাছা উপজেলা পরিষদের সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি। এছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধেও ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া বলেন, তারা আমাদের বেডরুমে প্রবেশ করে আমার স্বামী, শিশুপুত্র এবং আমাকে মারপিট করে। মারপিট শেষে তারা টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমি তাদের বলে, বেডরুমে ঢুকে কেন আমাদের এভাবে মারপিট করছেন? কাউন্সিলর মোস্তফা তখন উত্তর দেন, আমি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, বেডরুম কেন বাথরুমেও ঢুকতে পারি। সব জায়গায় ঢোকার ক্ষমতা আমার আছে। এখানে স্কুল চালাতে গেলে আমাদের পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে।

সাংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষের স্ত্রী ও সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া স্কুলের সহকারী শিক্ষক শামীমা আক্তার, আকলিমা, কনা রহমান, নাইস, নূর মোহাম্মদ, ফরহান হোসেন ফ্রাঙ্ক, ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজ্জাদ ইশতিয়াক, ৫ম শ্রেণির জিদান, শাওন, ফরহাদ ও ফাহিম, ৪র্থ শ্রেণির তন্ময়, ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ ও শাফি প্রমুখ। এসময় সহকারী শিক্ষক ফারহান এবং শিক্ষার্থীরাও তাদের মাধরের অভিযোগ করে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌগাছা থানার উপ পরিদর্শক সালাউদ্দিন বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তারা চৌগাছার বাইরে পালাতক রয়েছে। শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘটনার সময় আমি চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) মারুফ হোসেন এবং সেকেন্ড অফিসার আকিকুল ইসলামের সঙ্গে শহরের ধনী প্লাজায় বসে চা খাচ্ছিলাম। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করে অধ্যক্ষকে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিয়ে আসি। কিন্তু আমার সম্মানহানী করতে একটি পক্ষ তাকে দিয়ে মামলা এবং সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন।

উৎসঃ purboposhchim

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত