প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবে বসতে না দিলে কারখানায় দুর্গ গড়ে তোলা হবে: সেলিম

জাফর আহমদ: নিত্যপণ্যের দাম তিন থেকে চারগুন হয়েছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি তিনগুন বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করতে হবে। তা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে হুসিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি ঘোষণার সাথে প্রশাসন ও মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সামনে বসতে না দিলে প্রতিটি গার্মেন্ট কারখানায় দুর্গ গড়ে তোলা।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (জিটিইউসি) আয়োজিত গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করা ও সোয়েটার শ্রমিকদের পিসরেট বৃদ্ধিসহ সকল শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জিটিইউসি-এর সভাপতি এডভোকেট মন্টু ঘোষ। বক্তব্য রাখেন, সিপিবি-এর সাবেক সভাপতি ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিউইউসি) সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরী, সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহমান খান মঞ্জু, জিটিইউসির কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, শ্রমিক নেতা এডভোকেট কিয়াউল কবীর খোকন, সাদেকুর রহমান শামীম প্রমুখ।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বৈদেশিক আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। যার পুরো অবদান শ্রমিকের। পাকিস্তানের কাছে থেকে বঙ্গবন্ধু এখানকার ৫৬ শতাংশ মানুষের আনুপাতিক হিস্যা চেয়েছিলেন। দেশে এখন ৫০ লাখ শ্রমিকসহ পরোক্ষ প্রত্যক্ষ মিলে প্রায় ৩ কোটি মানুষ রয়েছে যারা পোশাক তৈরি পোশাক রফতানিতে ভুমিকা রাখছে। এখন সময় এসেছে দেশে যে সম্পদ তৈরি হয়েছে তার ২০ শতাংশ সম্পদ শ্রমিকদের হস্তান্তর করা।

তিনি বলেন, সরকার বলছে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১,৬১০ ডলার বা ১৩ হাজার টাকা। তাহলে একজন শ্রমিককে দুই জনের সংসারের রোজগার করতে হবে ২৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা দাবি করা খুবই যৌক্তিক। শ্রমিকরা যদি এ টাকা মজুরিও না পায় তাহলে উৎপাদনের জন্য সহায়ক হবে না।

শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে শর্ট-কার্ট কোন রাস্তা নেই। যে আন্দোলন শুরু হবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, শ্রমিকদের ঐক্যর অভাব আছে। গাজীপুরের শ্রমিকরা স্ট্রাইক করলে আশুরিয়ার শ্রমিকরা জানে না। আশুলিয়ার শ্রমিকরা জেল-জুলুমের শিকার হলে নারায়নগঞ্জের শ্রমিকরা জানে না। ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হলে দেশব্যাপি শ্রমিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত