প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকায় সক্রিয় ভারতীয় জাল রুপি সিন্ডিকেট

ইসমাঈল হুসাইন ইমু: সীমান্তে কড়া নজরদারি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতার ভেতরেই সক্রিয় রয়েছে ভারতীয় জাল রুপি সিন্ডিকেট। ১ লাখ রুপির প্রকৃত বাজার মূল্য সোয়া লাখ টাকারও বেশি। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০/১২ হাজার টাকায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা কৌশলে ওইসব রুপি ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের মুদ্রা বাজারে। তবে এই রুপি আসল নয়, জাল। ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে র‌্যাব-৩ এর হাতে গ্রেফতার হওয়া জাল মুদ্রা তৈরির সিন্ডিকেটের দুই সদস্য লিয়াকত আলী ও জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার হওয়া লিয়াকত প্রায় ১৫ বছর ধরে জাল মুদ্রা তৈরি ও কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত। ১০ বছর ধরে সে নিজেই অবৈধ জাল মুদ্রা তৈরির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। কেরানীগঞ্জে নিজের বাসাতেই জাল মুদ্রা তৈরি এবং সহযোগীদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় তা সরবরাহ করে আসছিল লিয়াকত।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, লিয়াকত তার বাসাতেই ডাইস ও প্রিন্টার বসিয়ে জাল মুদ্রা তৈরি করতো। এমনকি তার বাসাতেই মুদ্রায় থাকা বিশেষ নিরাপত্তা সুতাও সেট করতো। মুদ্রা তৈরি হয়ে গেলে সে প্রতি এক লাখ ভারতীয় রুপির বান্ডিল সহযোগীদের কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। তার সহযোগীরা সেই রুপি আবার ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। এরপর খুচরা ব্যবসায়ীরা একটি-দুটি করে জাল নোট সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া, রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জের দোকানে গিয়ে আসল ভারতীয় রুপির সঙ্গে এসব জাল রুপি ঢুকিয়ে দিয়ে টাকায় রূপান্তর করে নেয় সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

র‌্যাব-৩ এর একজন কর্মকর্তা জানান, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা লিয়াকত এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই সে কয়েকমাস কারাগারে থাকার পর জামিনে বের হয়ে এসেছে এবং পুনরায় আগের মতো জাল মুদ্রার ব্যবসা শুরু করেছে। প্রতিবারই নিজের যোগাযোগের নম্বর ও বাসা বাড়ি বদল করে ফেলতো সে। লিয়াকতের নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত