প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাদুকর্ম, জ্যোতিষ ও দৈবকর্ম : ইসলামের বিধান

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: বর্তমান সমাজের অনেক মানুষ বিশ্বাস করে জাদু ও দৈবকর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাধির চিকিৎসা হয়। সমাজের অশিক্ষিত শ্রেণির মূর্খতা আর নির্বুদ্ধিতাকে পুঁজি করে বিভিন্ন দেশে এক শ্রেণীর লোক এ পেশাকে সম্প্রসারিত করে চলেছে। আল্লাহ তায়ালা রোগ দেন। আবার রোগ থেকে আরোগ্যতা দান করেন। আল্লাহর দেয়া অসুস্থতা থেকে সুস্থতার জন্য উসিলা তথা ঔষধপত্র গ্রহণ করা বৈধ। তবে ঔষধ ইত্যাদী মানুষকে সুস্থ করে এমন ধারণা করা বৈধ নয়। সুস্থতা আর অসুস্থতা দানকারী একমাত্র আল্লাহ। তাই অসুস্থ ব্যক্তির জন্য গণক, জ্যোতিষী ও দৈবজ্ঞদের কাছে যাওয়া বৈধ নয়, যারা দাবি করে যে, তাদের কাছে অসুস্থ ব্যক্তির রোগ চিহ্নিত করার গায়েবী জ্ঞান রয়েছে। এদের ব্যাপারে শর‘য়ী হুকুম হল এরা কুফুরী ও ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন দৈবজ্ঞের কাছে এসে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হবে না। (মুসলিম) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে আসে এবং সে যা বলে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে মুহাম্মদ (সা.)মের উপর অবতীর্ণ সত্যের প্রতি কুফুরী করল। (আবু দাউদ) যে ব্যক্তি কোন দৈবজ্ঞ বা গণকের কাছে আসে এবং তার বক্তব্যকে সত্য বলে মেনে নেয়, সে মুহাম্মদ (সা.)মের উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল। (মুসনাদে আহমাদ) ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছুর ভিত্তিতে কোন কিছু অশুভ বলে ঘোষণা দেয় কিংবা যার জন্য (তার চাওয়া অনুসারে) অশুভ বলে ঘোষণা দেয়া হয়; যে ব্যক্তি গণনা করে কিংবা যার জন্য (তার চাওয়া অনুসারে) গণনা করা হয়; যে ব্যক্তি জাদু করে কিংবা যার জন্য (তার চাওয়া অনুসারে) জাদু করা হয়Ñ তাদের কেউই আমাদের অন্তর্গত নয়। আর যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে এসে তার বক্তব্যকে সত্য মনে করে, সে রাসুল (সা.)মের  উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল। (বায্যার)

অনুরুপভাবে জাদু বিদ্যা হারাম ও কুফুরী। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:- তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা নিছক একটি পরীক্ষা মাত্র; কাজেই তুমি কুফুরী করো না। তা সত্ত্বেও তারা ফেরেশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো যায়। অথচ তারা আল্লাহ্র আদেশ ছাড়া তদ্বারা কারো অনিষ্ট করতে পারত না। এতদ্সত্ত্বেও তারা তা-ই শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং কোন উপকারে আসতো না। তারা ভালভাবে জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে (অর্থাৎ জাদুর আশ্রয় নেয়) তার জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত! (সূরা বাকারাহ-১০২) যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত! (সূরা বাকারাহ-১০২)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত