প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে কিশোর আবিদ?

ডেস্ক রিপোর্ট : মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল সৈয়দ আবিদ হাসান (১৫)। টেস্ট পরীক্ষা চলছিল। দুটি পরীক্ষার পর হঠাৎ নিরুদ্দেশ এ শিক্ষার্থী। চলে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যায় বাসায় থাকা তার সব ছবি, ১৯ হাজার টাকা ও জামাকাপড়। এর পর ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি আবিদের। ঘটনার পর রাজধানীর রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাবা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। র‌্যাবের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। আবিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সে দেশে আছে, নাকি দেশ ছেড়েছে, এ বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আবিদের বাবা সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। তিন ভাইয়ের মধ্যে আবিদ মেঝ। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই সকালে রফিকুল ইসলাম অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবিদের মা-ও তার ছোট ভাইকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বেরিয়ে যান। এরই মধ্যে বেলা ১১টার দিকে বেরিয়ে যায় আবিদ। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পুলিশের আশ্রয় নেন রফিকুল ইসলাম।

আবিদ ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত নামাজ পড়ত। বনশ্রীর ইকরা কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়ত। পরিবারের অভিযোগ, জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ঘর ছেড়েছে তাদের সন্তান। ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন আবিদের কোচিং সেন্টারের দুই শিক্ষক। আবিদের বাবা জানান, তাদের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর তার তিন বন্ধু বাসায় এসে ওই দুই শিক্ষকের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। তাদেরও নাকি ঘর ছেড়ে জঙ্গিত্বের পথ ধরতে বলেছিলেন ওই শিক্ষকরা।

ওই দুই শিক্ষকের একজন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যজন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ইকরা কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন দুজন। তাদের একজন মনে করেন, জঙ্গিবাদে জড়িয়েই ঘর ছেড়েছে ওই স্কুলছাত্র। তবে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আবিদ একবার আমার কাছে বিষয়টি তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি, এ ধরনের কথা বললে তোমার বাবা-মাকে বলে দেব। বাড়ি ছাড়ার তিনদিন আগেও সে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। তখন কিছুই বুঝতে পারিনি। তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। আসলে ও খুব ভদ্র ছিল। তাই তাকে পছন্দ করতাম। কিন্তু এই ছেলে এমন কাজ করবে কেউ ভাবতে পারিনি। তার বাবার অভিযোগ নিছক সন্দেহ।

অন্য শিক্ষক বলেন, আমরা দুই শিক্ষক নামাজ পড়ি নিয়মিত। আবিদও নামাজ পড়ত। এ কারণে আমাদের যদি কেউ দোষারোপ করে সেটি অন্যায়। তা ছাড়া বিষয়টি র‌্যাব তদন্ত করেছে। আমাদের কোনো মদদ থাকলে নিশ্চয়ই তারা পেয়ে যেতেন। এছাড়া আবিদের যেসব বন্ধু তার বাবার কাছে অভিযোগ করেছে, ওই বন্ধুর মেয়েবন্ধু আমাকে পছন্দ করত। প্রতিশোধ নিতেই হয়তো সে মিথ্যা বলেছে।

এদিকে আবিদ নিখোঁজের পর থেকে পরিবারটির সব আনন্দই হারিয়ে গেছে। তাকে ফিরে পেতে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রফিকুল ইসলাম। বিভিন্ন জঙ্গি অভিযানের পরই পুলিশের কাছে ছুটে যান তিনি, যদি ছেলের সন্ধান মেলে।

সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা খুব আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তবে আমার ছেলে যদি বিপথে গিয়ে থাকে, তবে সেজন্য ওর কোচিং সেন্টারের ওই দুই শিক্ষক দায়ী। তাদের যে কোনো একজনকে ঠিকমতো জিজ্ঞাসাবাদ করলেই রহস্য বের হয়ে আসবে।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বিষয়টি অনেক আগের। তাই খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।

সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত