প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেবিচক কর্মকর্তাদের অনিয়মে সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগী বেবিচক কর্মকর্তাদের কারণে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠক থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করা হয়েছে। কমিটিতে আসা অভিযোগ ২৭ ডিসেম্বর দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় ‘জামায়াত-শিবিরে বেষ্টিত বেবিচকও হুমকির মুখে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে খবরটি প্রকাশতি হওয়ার পর সংসদীয় কমিটি বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বা সিভিল এভিয়েশন-এর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, কামরুল আশরাফ খান, তানভীর ইমাম, রওশন আরা মান্নান ও সাবিহা নাহার বেগম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট উত্থাপন করেন কমিটির এক সদস্য। সেখানে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। ওই কর্মকর্তারা এখনো নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আগমীতে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কমিটিতে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, সিভিল এভিয়েশন-এর শীর্ষ পদে নানা কৌশলে আসীন হয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থক কর্মকর্তারা। যারা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত। ওই কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ষড়যন্ত্রের কারণে বেবিচকের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে হুমকির মুখে। এনিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে বেবিচক সদস্য (পরি/পরি) এম মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্নীতি সম্পর্কে ইতোমধ্যে বহুবার অভিযোগ দায়ের করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অবৈধভাবে অর্থ-বিত্তের মালিক এই কর্মকর্তা বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী ফাহাদ করিমের সঙ্গে এপিস নামক একটি প্রজেক্টে ব্যবসায়িক অংশীদার হয়েছেন। ওই প্রজেক্টের কাজ পাইয়ে দেয়ার শর্তে দুই কোটি টাকা নগদ গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিমাসে ১০ লাখ টাকা ও কাজ শেষে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ নেয়ার চুক্তি করেছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের ছাত্র শিবির কর্মী ও বর্তমানে সিএএবির ফ্লাইট সেফটি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর লুতফর কবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির কর্মী ও বেবিচকের সদস্য (পরি/পরি)-এর কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক আবদুল মোনেম, বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিমানমন্ত্রী মীর নাসিরের সরাসরি হস্তক্ষেপে সিনিয়র যোগাযোগ প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পাওয়া ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ সফিউল আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভি-নিরু গ্রুপের ক্যাডার ও বর্তমানে সিএএবির এটিসি উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক ইফতেখার জাহান, সাবেক বিমানমন্ত্রী মীর নাসিরের ভাগ্নে নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম) মো. শাহরিয়ার, জামাতের সক্রিয় সদস্য ও পাকিস্তানী বংশজাত উগ্র মৌলবাদি কর্মী এইএলডির সহকারী পরিচালক আতাউল্লাহ হাশমী, সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ কায়সার, বিএনপি সমর্থক উপ-পরিচালক (প্রশাসন) নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ইকরাম উল্লাহ, এরাড্রম অফিসার (ফায়ার) হিসেবে কর্মরত রফিকুল ইসলাম এবং রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্র শিবির সভাপতি ও বর্তমানে সহকারী পরিচালক আহসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য রওশন আরা মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, বেবিচক-এর শীর্ষ পদগুলোতে কৌশলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগীরা আসীন হয়েছেন। তারা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে ভাবমূর্তি নষ্ট করার পাশাপাশি ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন। যা পুরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। কমিটি এবিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে।

এবিষয়ে কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ আছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কমিটিতে নেই। আগামীতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এ ছাড়া বৈঠকে সিভিল এভিয়েশনের বেশিরভাগ প্রকল্প শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বেশকিছু আইনি জটিলতা আছে, সেগুলোর সুরাহা করতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিমানবন্দরে প্রাইভেট হেলিকপ্টারের যে হ্যাঙ্গার রয়েছে, সেটা সরিয়ে নতুন করে করতে হবে। এই কাজটিও এখনও শুরু হয়নি। এবিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে আইনি জটিলতা ও কারিগরি সমস্যার সমাধান করে যতদ্রুত সম্ভব প্রকল্প দু’টির কাজ শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সূত্র : মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত