প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন বছরে নতুন অভিযাত্রায় বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : আর মাত্র দু’দিন। এর পরই নতুন বছরে নতুন অভিযাত্রায় বাংলাদেশ পা দেবে। জানুয়ারিতে হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের বৈঠক। আর মে মাসে হতে যাচ্ছে ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪৫তম সম্মেলন। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন পথে পা বাড়াবে। কারণ এ ফোরামের বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় টেকসই উন্নয়নের হলেও বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ কতদূর এগিয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এই পথে একদিকে আসছে নানা প্রশ্নের জবাবদিহিতা, অন্যদিকে খ্যাতির অর্জনে প্রশংসা। নতুন বছরে প্রথম মাসেই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের বৈঠক। যে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে একেবারে ব্যাংকিং ব্যবস্থার হালনাগাদ বিষয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে দুর্নীতি দমনে কতটুকু এগিয়েছে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি ভূয়সী প্রশংসা করা হবে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া ও তাদের প্রতি মমত্ববোধের সরকারের কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসছে ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের বৈঠক হতে যাচ্ছে। আর এই বৈঠকে সব উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ জানুয়ারি এই বৈঠকের উদ্বোধন করবেন বলে নিশ্চিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ জানান, দু’দিনের বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনে উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যসহ তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন। এর পর সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়া হবে।

নিভর্রযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বেশ প্রাধান্য পাবে। তবে এতে সরকারের প্রশংসাই অগ্রাধিকার পাবে। কারণ ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সরকারের যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে তা দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এদের জন্য আগামী বাজেটে বরাদ্দ রাখার বিষয়টি অবহিত করা হবে।

আর্থিক খাতের ব্যবস্থাপনা বিষয়টি এবার বিডিএফে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এমনকি মানি লন্ডারিং ইস্যুটি সামনে চলে আসতে পারে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের জাতীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে এই আইনের অধীনে যে সব মামলা হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠেয় এপিজির বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি জানাতে হবে। এরই সূত্র ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নিয়ে বিডিএফের বৈঠকে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য খুব শিগগির প্রস্তুতিমূলক সভা করবে ।

জানা গেছে, উন্নয়ন সহযোগীদের কোনো প্রশ্নের উত্তরে সরকারের পক্ষ থেকে ছাড় দেয়া হবে না। সবগুলো জবাব দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কি পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে তার একটি খসড়া খতিয়ান দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কিভাবে সেই পাচার করা অর্থ ফেরত আনা হবে তারও ফিরিস্তি থাকবে। প্রসঙ্গক্রমে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা অর্থ ফেরত আনা হয়েছে সে বিষয়টি উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের বিডিএফের বৈঠকে দুর্নীতি নিয়ে কথা উঠতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতি কি ধরনের সহনীয় পর্যায়ে এসেছে তার একটি চিত্র দুদকের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি কতগুলো মামলা হয়েছে আর মামলা কি পর্যায়ে রয়েছে তার খতিয়ান তুলে ধরা হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে যে কোনো ধরনের প্রশ্নের জন্য দুদক প্রস্তুত থাকবে। এবারের বিডিএফের নতুন মাত্রা হচ্ছে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। অন্যান্যবারে মেলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু সোনারগাঁও হোটেলে বৈঠক হওয়ার কারণে জায়গা তেমন মিলছে না।

স্মরণিকায় বাংলাদেশের অভিযাত্রার বিগত ও বর্তমান সময়ে বিশেষ অর্জনগুলো তুলে ধরা হবে। এ ব্যাপারে ২৭ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে নমুনাসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে আগামী ৫-৬ মে ঢাকায় হতে যাচ্ছে ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪৫তম সম্মেলন। বিশ্বের দরবারে নতুন করে অভিষিক্ত হবে বাংলাদেশ। সম্মেলনে আগত অতিথিদের যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিবহন সুবিধা দেয়া হবে। আর সে লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওআইসি সংস্থা প্রধানদের ব্যবহারের জন্য ৩০টি মার্সিডিজ বেঞ্চ ও বিএমডব্লিউ-৭ সিরিজের গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন অধিশাখা থেকে জানা গেছে। এ সব গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হতে পারে। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত