প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের সংসদে তিন তালাক বিল পাশ

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : তুমুল বিরোধিতার মধ্যে বৃহস্পতিবার সংসদে মৌখিক ভোটে পাশ হয়ে গেলো তিন তালাক বিল। এই বিলে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রমাণিত হলে তিন বছর কারাবাস এবং জরিমানা হবে পুরুষের। নাবালক সন্তানরা মহিলার কাছে থাকবে। আর মহিলা চাইলে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করতে পারেন।

জম্মু-কাশ্মীর ছাড়া দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই তিন তালাক আইন কার্যকর হবে। এ দিন লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। সাড়ে চার ঘণ্টার বিতর্ক শেষে ভোটাভুটিতে বাতিল হয়ে যায় অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তহাদুল (এআইএমআইএম)’র সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়াইসির পেশ করা সংশোধনী।

তিনি বলেন, “আজ দেশের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন। নারী শক্তি, নারী সম্মান এবং নারীদের অধিকার রক্ষার্থে এ এক তাৎপর্য্যপূর্ণ পদক্ষেপ।” অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তহাদুল (এআইএমআইএম), বিজেডি, এআইএডিএমকে-সহ বেশ কিছু দল এই বিলের বিরোধিতা করলেও কংগ্রেস কিন্তু সে রাস্তায় হাঁটেনি। বরং বিলটি কী ভাবে সংশোধন করা যায় সেই প্রশ্নই তুলেছে তারা।এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানেই তিনি বার্তা দেন, সব দলের ঐকমত্যেই বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা করতে হবে। অন্য দিকে, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীও দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে স্থির হয় তিন তালাকের বিরোধিতা করা হবে না ঠিকই, তবে বিলে ‘শাস্তি’ হিসাবে যে তিন বছর কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে তা নিয়ে তাদের প্রবল আপত্তি আছে। কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব লোকসভায় বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন, “মহিলাদের সুরক্ষার জন্য এই বিলকে আরও শক্রিশালী করতে হবে আমাদের।” পাশাপাশি তিনি এ প্রশ্নও তোলেন, ‘‘বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও পরিবারকে পরিত্যাগ করেন তাঁকে জেলে পাঠানো হবে। কিন্তু জেলে থাকলে তিনি কী ভাবে পরিবারের ভরণপোষণ করবেন? সে কথা নেই। সেটাও তো থাকা উচিত।’’ তবে, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তহাদুল (এআইএমআইএম), বিজেডি, এআইএডিএমকে-র মতো দলগুলো তুমুল হইচই জুড়ে দেয় এ দিন সংসদে। এআইএমআইএম-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেন , “এই বিল এনে মুসলিম মহিলাদের প্রতি অন্যায় করছে কেন্দ্র। এতে তাঁদের স্বাধীনতার অধিকার খর্ব হবে।বিবাহ একটি সামাজিক চুক্তি ,সরকার একে অপরাধিকরণ করছে কোন যুক্তিতে ?” বিজেডি-র অভিযোগ, বিলটি ভুলে ভরা। ওয়াইসির বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “মুসলিম মহিলাদের যন্ত্রণা বোঝার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পরেও এমন ঘটনা ঘটেছে।” এ দিন তিনি রামপুরের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান, শুধুমাত্র দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার জন্য এক মুসলিম মহিলাকে তাঁর স্বামী তালাক দিয়েছেন! পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, ইসলামিক দেশগুলো তিন তালাক নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে, তা হলে ভারতের মতো একটা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হয়ে সেটা কেন মেনে নিতে পারছে না? এ ক্ষেত্রে তো সরকার শরিয়ত আইনে নাক গলাচ্ছে না! রবিশঙ্কর প্রসাদ বিলটি পেশ করার পর কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, “আমরা তিন তালাক বিলকে সমর্থন জানাচ্ছি। কিন্তু বিলের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার দরকার আছে। এই বিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে রিভিউ-এর জন্য পাঠানো উচিত।” সাড়ে চারঘন্টার বিতর্ক শেষে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির সময় ভোটদানে বিরত থাকে বিজু জনতা দল ,এ আই এ ডি এম কে এবং তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে বিলটি লোকসভায় পাশ করাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি সরকারকে । তবে বিলটি যখন সংসদের উচ্চসদন রাজ্যসভায় উঠবে, সেখানে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে।আঞ্চলিক দলগুলির অনেকেই এই বিলের বিরোধিতা করছে। রাজ্যসভায় বিল পাশ না হলে ফের তা যাবে সংসদীয় কমিটির কাছে। বিজেপি তাই চাইছে বিজেডি এবং এআইএডিএমকে-র মতো দলগুলোকে বুঝিয়ে পাশে পেতে। যাতে রাজ্যসভায় বিলটি কোনও ভাবে আটকে না যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত