প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভ্রাম্যমান আদালতকে হাইকোর্ট; সব ক্ষমতা সব সময় দেখানো উচিত নয়

এস এম নূর মোহাম্মদ : ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায় অবশেষে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন উচ্চ আদালতে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের অবকাশকালীন বেঞ্চ লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ক্ষমা করে দেন। সেইসঙ্গে রুল নিষ্পত্তি করে আইনজীবীকে দেওয়া সাজা বাতিল ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। এ সময় আদালত বিরোদা রানী রায়কে কড়া ভাষায় সতর্কও করে দেন। নির্দেশ মোতাবেক বৃহস্পতিবার বিরোদা রানী রায়ের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব আদালতে লিখিতভাবে নি:শর্ত ক্ষমার আবেদন করেন। আবেদনে বিরোদা রানী বলেন, আমি স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে ওই কাজ করেছি। আর কখনো এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। ওই ঘটনার জন্য অনুততপ্ত। নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।

এসময় আদালত বলেন, তাহলে ওই ঘটনায় আপনাকে কেন দোষী সাব্যস্ত করা হবে না? এরপরই আদালত বিরোদা রানী রায়কে এজলাসের সামনে ডাকেন। তিনি সামনে এসে দাড়ালে আদালত বলেন, উনি একজন আইনজীবী। অন্যায় করলে আপনি বার কাউন্সিলে যেতে পারতেন। আপনার আরও সংযত হতে হবে। মনে রাখবেন এটা স্বাধীন দেশ। সব ক্ষমতা সব সময় দেখানো উচিত নয়। আর বাইরের কেউ হামলা করলে ভ্রাম্যমান আদালত বসাতে পারতেন। এটা করা ঠিক হয়নি। আপনি মোবাইল কোর্ট আইনের অপব্যবহার করেছেন। প্রসিডিং ভঙ্গ করে একজন আইনজীবীকে শাস্তি দিলেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা নিজেদের জনগণের প্রশাসক মনে করেন। আপনারা যে জনগণের সেবক এটা ভুলে যান।

আদালত সহকারী কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা জনগণের করের টাকায় চলেন। আর সেই জনগণের ওপর খবরদারি করেন। মনে রাখবেন আপনারা জনগণের সেবক। জনগণের সেবা করার জন্য এসেছেন। রিক্সা ওয়ালা-ভিক্ষুক সবাই কর দেয়। সবাইকে সম্মান করে কথা বলতে হবে। আপনি এ ঘটনার জন্য অনুততপ্ত? আপনি যা লিখেছেন তা কি বুঝে লিখেছেন? ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি হবেনা উল্লেখ করেছেন। এটা কি আপনার মনের কথা? জবাবে সহকারী কমিশনার বলেন, জ্বী।

আদালত তখন বলেন, পাবলিক অফিস সামাল দেওয়া কঠিন কাজ। সমস্যা হতেই পারে। অনেক কিছু সহ্য করতে হবে। প্রয়োজনে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমরাও আইনি কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নেই। অনেক সময় অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেই। পরামর্শ নেওয়ায় লজ্জার কিছু নেই। আপনি ২০১৬ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। আবেদনে আপনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বয়স, চাকরি এবং এই ঘটনায় অনুতপ্ত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আপনার আবেদনটি গ্রহণ করলাম।
এদিকে মামলাটির শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ভ্রাম্যমাণ আদালতের অপব্যহার রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা চান। এসময় আদালত বলেন, এ নিয়ে একটি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধিন। তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবেনা। প্রসঙ্গত, কথা কাটাকাটির জের ধরে বিরোদা রানী রায় তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দিনাজপুরের প্রবীণ আইনজীবী বিনোদ বিহারীকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনার জের ধরে তাকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বদলি করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত