প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একটি হাস্যকর ভাষ্য!

মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক : বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম. এন. আমিনুর রহমান গত আগস্ট মাসের ২৭ তারিখ রাত্রি দশটার পর কোনো একটি সময়ে অপহরণ হয়েছিলেন। কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছেন, সেটা আমাদের অনুমানের মধ্যে আছে। আমাদের মূল্যায়নের মধ্যে আছে। তবে আঙুলে নির্দেশ করে বলাটা আইনগতভাবে বাস্তবসম্মত নয় বিধায় আমরা বলছি না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের গত নয় বছরের রাজনৈতিক সফলতা ও অভ্যাস পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করার পর আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই অপহরণ করা হয়েছিল। পাঠক পড়ছেন গত শুক্রবার দিনের শেষে রাত্রিবেলা হঠাৎ করে এম. এন. আমিনুর রহমানের মোবাইল ফোন খোলা পাওয়া যায়। এক মাস ১৭ দিন পর এ মোবাইলটি খোলা পাওয়া গেল। সেই মোবাইল ফোন থেকে চারটি জায়গায় ফোন করা হয়েছিল।

ফোন করে তারা কোনো কথা বলেননি। ফেরত যখন কল করা হলো তখন রিসিভ করেও কেউ কথা বলেন নি। ফলশ্রুতিতে আমাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে আগামী কাল শনিবার কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। শনিবার দিন সকাল বেলা তাকে ডিবি অফিসে আনা হয়, তারপর তাকে ঢাকা মহানগর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ দশদিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে। আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। শনিবার দিন বিকাল তিনটা থেকে নিয়ে চারদিনের রিমান্ডে আছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহা সচিব এম. এন. আমিনুর রহমান। গত আগস্ট মাসের ২৭ তারিখ থেকে নিয়ে ১ মাস ১৭ দিনের মাথায় তার সন্ধান পেলাম। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, তাকে জীবিত ফেরত পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকার কর্তৃক আইনি জটিলতায় আটকে আছেন। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে আমরা মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ।

বলে রাখা প্রয়োজন যে, বিগত ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান ২ নম্বর গোল চত্বরের কাছে নৌমন্ত্রী জনাব শাজাহান খান মহোদয় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের দিকে একটি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। সেই অভিযানে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম যে, কে বা কারা ককটেল ফুটিয়েছে। সেই ককটেল ফুটানোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সে মামলায় ১৫ ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু সেখানে জনাব এম. এন. আমিনুর রহমানের নাম উল্লেখ ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, গত শনিবার আদালতে যখন জনাব এম. এন. আমিনুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়, তাকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো। পুলিশ বলে যে, জনাব আমিনুর রহমান এই মামলার একজন আসামি। তিনি এতদিন পলাতক ছিলেন, তাকে মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে ধরা হয়েছে। এটা পুলিশের ভাষ্য এবং একটি হাস্যকর ভাষ্য। আমরা এতে আস্থা রাখি না। যাই হোক, এ নিয়ে আমরা কোনো ঝামেলা করতে চাই না। যেহেতু বাংলাদেশের পুলিশ তাকে আইনের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে, আইনেই এর ফয়সালা হবে বলে বিশ্বাস করি।

পরিচিতি: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত