প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষামন্ত্রীর ওপর কাল-বৈশাখি ঝড় চলছে: রিজভী

কিরণ সেখ: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ওপর কাল-বৈশাখি ঝড় চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রাক্তন জাতীয়তাবাদী  ছাত্রদল ফোরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিনেট নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মো. মাসুদ হাসান তালুকদার লিটনের সভাপতিত্বে এ পরিচিতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনি নির্বাচন-২০১৭, জাতীয়তাবাদী প্যানেল পরিচিতি’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রীরা চোর আমিও চোর- শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি বলেননি, বিএনপি-জামায়াতের আমলে হয়েছে। অথ্যাৎ তার মুখ দিয়ে সত্য কথা বের হয়ে এসেছে। এর মধ্যে দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে যে অনৈতকতা সৃষ্টি করলেন, এটা নজিরবিহীন।
তিনি বলেন, আর এখন, দলের মধ্যে তার (শিক্ষামন্ত্রী) ওপরে চরম ঝড় বয়ে যাচ্ছে। আপনি কেনো বলেছেন, কেনো বলেছেন। তাই আজকে আবার বললেন, এটা আসলে বিএনপি জোট শাসনের আমলের বোঝা। তার (শিক্ষামন্ত্রী) ওপর যে কাল-বৈশাখির ঝড় চলছে, সেখান থেকে বাঁচার জন্য ও মন্ত্রীত্ব রক্ষার্থে তিনি এ কথা বলছেন। আমি শিক্ষমন্ত্রীকে বলতে চাই, তাতে কোন লাভ হবে না শিক্ষামন্ত্রী? আপনারা শিক্ষাকে পুন্য পরিণত করেছেন। শিক্ষাকে এত অনৈতিক জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন, ক্লাস ওয়ান থেকে এইচএসসি পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহাৎসব। এই দায় আপনি এড়াতে পারেন না এবং দায় থেকে বাঁকে পারেন না- বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আজকে বিএনপি চেয়ারপারসন হাজিরা দিয়েছেন। এই কারণে আগামীকাল পর্যন্ত তার জামিন আছে। একটা মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য, যে মামলার সাথে তার কোন সম্পৃক্তা নেই। শুধু তাকে হয়রানি ও কলঙ্কিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনি প্রক্রিয়া নয় আওয়ামী লীগ প্রক্রিয়ার তাকে আদালতে হাজির ও  হয়রানি করছেন। দেশবাসী জানেন, প্রধানমন্ত্রী তার  ব্যক্তিগত ক্রোধ ও প্রতিহিংসার চরিতার্ধ করছেন, অন্য কিছু না- বলেন তিনি।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গণতন্ত্র শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, সমাজ-রাষ্ট্রে কোথাও গণতন্ত্রের লেশ মাত্র নেই। আজকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্রলীগের এককদলীয় কতৃত্ববাদী শাসনের স্ট্রেশনের দানবে পরিণত হয়েছে। এর পরিবর্তে আমরা দেখছি, একক কর্তৃত্ববাদী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে মানবাধিকার ও কথা বলার অধিকার নেই।
রিজভী বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনে একটি সংগঠন থাকবে। সেটা হচ্ছে ছাত্রলীগ। আর এর পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভয়াবহভাবে নারী নির্যাতন! আজকে এক দু:সহপরিস্থিতির মধ্যে দেশ আছে। সেই কারণে এ অবস্থা।
আমরা চাই কার্যকর রাষ্ট্রা আর আওয়ামী লীগ চায় কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র জানিয়ে তিনি বলেন, এটা হয় না কি?
সিনেট নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আমি আগেও শুনেছি, এখনও শুনি। প্যানেল ঘোষণার পরে কেউ কেউ কারো সাথে গোপন আঁতাত করে শুধু নিজের ভোটটা চান। অন্যদের ভোট চান না। এই বিষয়গুলো যাতে না হয় সেক্ষেত্রে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে।
সিনেট নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলের এজেন্ডাগুলো হলো: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে বর্তমান নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে তা দূর করা, গবেষণা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা, শিক্ষক নিয়োগে মেধাকে প্রাধান্য দেয়া, সিনেট শিক্ষক, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধিসহ সব ক্যাটাগরিতে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান, ক্যাম্পাসে সব ছাত্র-ছাত্রীদের সহাবস্থান নিশ্চিত, সুস্থ ছাত্র রাজনীতি চর্চার কেন্দ্রিক ছাত্র সংসদ জাকসু ও হল সংসদসমূহের নির্বাচনের ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন মাস্টাস প্লান বা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবর চাপসৃষ্টি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা, চিকিৎসা সমস্যা এবং হলের খাবারের মান ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধিতে সিনেটে ভূমিকা রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টান্ড গ্রাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, ইলিম মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন, কে এম রাশেদুল হাসান, মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (রাহাত), মো. আলমগীর সরকার, মো. আজগর হোসেন, মো. আশরাফ উদ্দিন খান, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, মো. সাবির হোসাইন, অধ্যাপক মো. শামছুল আলম (সেলিম), ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল, মো. জিয়াউর রহমান (জিয়া), মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া আরমান, মো. নাজমুল হাসান (অভি), মোহাম্মদ সাহীদুল ইসলাম জুয়েল, মো. জামাল উদ্দিন রুনু, মো. রবিউল ইসলাম, রুহুল আমিন কুতুব উদ্দিন আহমাদ, সাবিনা ইয়াসমীন, শাহনাজ পারভীন (লিপি), অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা (লাকি), শিহাব উদ্দিন খান ও সৈয়দ আবদাল আহমদ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত