প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১‌৭ সাল- ক্রিকেটে স্মিথ ও কোহলি আর পাকিস্তানের বছর

স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলে যেমন মেসি-রোনালদো, ক্রিকেটে সেটা স্মিথ-কোহলি। কেউ কারো চেয়ে কম নন। রান সংখ্যায় কখনো স্মিথ এগিয়ে তো কখনো কোহলি। বছর শেষের চিত্রটাও একই। টেস্টে কোহলিকে ছাড়িয়ে সেরা রান সংগ্রাহক হয়েছেন অস্ট্রেলীয় দলপতি। অন্যদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে বছরটা কেবলই কোহলিময়। তবে শেষের দিকে কোহলির শ্রেষ্ঠত্বে কিছুটা ভাগ বসিয়েছেন রোহিত শর্মাও। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে নিয়ে বছরটা নিজেদের কয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। ২০১৭ সালে ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সালতাতামি।

স্মিথ-কোহলি যুদ্ধ –

স্টিভেন স্মিথ নাকি বিরাট কোহলি? ক্রিকেট বিশ্বে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে সেরা ব্যাটসম্যান কে? উত্তরে দ্বিধাবিভক্ত পুরো বিশ্ব। পরিসংখ্যান বলছে টেস্টে স্টিভেন স্মিথের আশপাশে কেউ নেই আর সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটেই সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। এ বছর ১১ টেস্টে ১২০৩ রান করেছেন স্মিথ। পাঁচটি শতকের পাশাপাশি রয়েছে তিনটি অর্ধশতক। গড়টা অবিশ্বাস্য ৭০.৭৬! সেরা রান সংগ্রাহকের তালিকায় পরের নামগুলো হলো চেতেশ্বর পুজারা, ডিন এলগার ও বিরাট কোহলি। ১০ ম্যাচে কোহলির সংগ্রহ ১০৫৯ রান। গড়ের দিক থেকে স্মিথের চেয়েও এগিয়ে কোহলি ৭৫.৬৪! পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন ভারত অধিনায়ক।

ওয়ানডে ক্রিকেটে অবশ্য কোহলির আশপাশে নেই স্মিথ। ২৬ ম্যাচে ছয়টি শতক ও সাতটি অর্ধশতকে কোহলির রান ১৪৬০। গড় ৭৬.৮৪! সেখানে ১৩ ম্যাচে স্মিথের রান মাত্র ৪৪৯। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ তিনটি ম্যাচ খেললে কোহলি রান ও সেঞ্চুরি আরো বাড়ত তা হয়তো না বললেও চলে। বছরের শেষ কয়েকটা ম্যাচে কোহলিকে প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছিলেন রোহিত শর্মা। ২১ ম্যাচে ‘হিটম্যানের’ রান ১২৯৩! গড়টা ৭১.৮৩!

স্পিনারদের জয়জয়কার –

নিশ্চিতভাবেই বর্তমান ক্রিকেটে সেরা বোলার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তবে এই বছর প্রাদপদ্রীপের নিচে অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়ন। এরই মধ্যে ১১ ম্যাচে ৬১ উইকেট নিয়েছেন লায়ন। ১১ টেস্টে অশ্বিন নিয়েছেন ৫৬ উইকেট। মেলবোর্নে অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন এই স্পিনার। নাথান লায়ন যে উইকেটের ব্যবধানটা আরো বাড়িয়ে নেবেন সেটা বলাই বাহুল্য।

টেস্টে এ বছর আলো ছড়িয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন, রবীন্দ্র জাদেজা ও কাগিসো রাবাদা। তিনজনই নিয়েছেন ৫৪টি করে উইকেট। রাবাদা ও অ্যান্ডারসন অবশ্য এ বছর আরো উইকেট নিতে পারেন। কারণ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে রাবাদার দক্ষিণ আফ্রিকা। আর জিমির ইংল্যান্ড খেলছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বছরটা হাসান আলীর। দুর্দান্ত বোলিং করে পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতিয়েছেন তিনি। এই বছর ১৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৪৫ উইকেট। অন্যদিকে কোনো অংশেই কম যাচ্ছেন না আফগান রহস্য মানব রশীদ খান। ১৬ ম্যাচে রশিদ নিয়েছেন ৪৩ উইকেট। রশিদের গড়টা বিস্ময়কর। প্রতিটি উইকেট নিতে মাত্র ১০ রান খরচ করেছেন তিনি। অন্যদিকে প্রতি উইকেট নিতে হাসানকে দিতে হয়েছে ১৭ রানের বেশি।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চার-ছয়ের বন্যা হলেও রানের চাকা টেনে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন স্পিনাররা। ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটে সব আলো করে নিয়েছেন ভারতীয় লেগ স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল। মাত্র ১১ ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রশিদ খান নিয়েছেন ১০ ম্যাচে ১৭ উইকেট।

ব্যাট হাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বছরটা এভিন লুইস ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের। ক্যারিবীয়দের হয়ে ৯টি টি-টোয়েন্টি খেলে ৩৫৭ রান করেছেন লুইস। অন্যদিকে ৭ ম্যাচে এবির রান ৩০৪। বছরটা বাবর আজমেরও। ১০ ম্যাচে পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান করেছেন ৩৫৪ রান। এ ছাড়া পাকিস্তানে আহমেদ শেহজাদ ও আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদও ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন।

ভারত ও পাকিস্তানের বছর-

এ বছর টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব এ বছর ১১ ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে ভারতীয় দল। হেরেছে মাত্র একটিতে। বাকি তিনটি ড্র। ১১ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ছয়টি, হেরেছে তিনটিতে। বছরটা ভালো কেটেছে নিউজিল্যান্ডেরও। সাত টেস্টে কিউইরা হেরেছে মাত্র একটিতে। জিতেছে চারটি ম্যাচ।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মিলিয়ে এ বছর সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স ছিল পাকিস্তানের। ভারত-ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোকে হারিয়ে র‍্যাংকিংয়ের অষ্টম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছে সরফরাজ আহমেদের দল। বছরে খেলা ১৮টি ওয়ানডের ১২টিতেই জিতেছে দলটি। জয়ের ক্ষেত্রে শতাংশের দিক থেকে অবশ্য এগিয়ে ভারত। ২৯টি ওয়ানডের ২১টিতেই জিতেছেন কোহলি-ধোনিরা।

টি-টোয়েন্টিতেও সবার চেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান। এ বছর খেলা ১০টি টে-টোয়েন্টি ম্যাচের আটটিতেই জিতেছে দলটি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। ১০ ম্যাচের সাতটিতে জিতেছে টেস্ট ক্রিকেটের নবীনতম দলটি। টি-টোয়েন্টিতে এ বছর ভালো খেলেছে ভারতও। ১৩ ম্যাচের নয়টিতে জিতেছে কোহলি-রোহিত শর্মার দল।

অন্য কারণেও পাকিস্তানের কাছে এই বছরটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে দেশটিতে। বিশ্ব একাদশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলো পাকিস্তান সফর করেছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই বড় দলগুলোও পাকিস্তানে খেলতে রাজি হবে।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার –

২০১৫ সালে এই ইংল্যান্ডই ভস্মাধারটা কেড়ে নিয়েছিল অসিদের কাছ থেকে। এবার দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ঐতিহাসিক অ্যাশেজ সিরিজ পুনরুদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি রুট-কুকরা। এটি অস্ট্রেলিয়ার ৩৩তম অ্যাশেজ জয়। ৩২বার জিতেছে ইংল্যান্ড।-এনটিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত