প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ কী শোনালেন শাস্ত্রী!

স্পোর্টস ডেস্ক : রবি শাস্ত্রীর কথাটা শুনেই বাংলা সিনেমার শাশুড়িদের কথা মনে পড়ল। অবলা নায়িকাকে বিপদে ফেলার জন্য তাঁরা যেমন হাহাকার করে উঠতেন, ঠিক সেভাবেই একটা চিৎকার দেওয়ার ইচ্ছেও জেগে উঠল, ‘হায়, আজ এমন কথাও শুনতে হলো!’

ভারতীয় কোচ কী বলেছেন, আরেকবার পড়ে নেওয়া যাক। ‘টি-টোয়েন্টি? আমরা একে পাত্তা দিই না। হারলাম, নাকি জিতলাম, এতে কিছু যায়-আসে না। তবে এটা তরুণদের সুযোগ করে দিচ্ছে, ২০১৯ সালে (বিশ্বকাপ) কারা থাকতে পারবে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।’

শাস্ত্রী যা বলেছেন, সেটা আরিক অর্থেই সত্যি। এই সংস্করণেই তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বুদ্ধিটা ভালো। আপাতদৃষ্টিতে মূল্যহীন ক্রিকেট খেলে যদি চাপ নেওয়ার অভ্যাস হয়, তবে খারাপ কী! টি-টোয়েন্টির উদ্ভবই হয়েছিল মজা দেওয়ার জন্য। নকল গোঁফ-দাড়ি লাগিয়ে আর আন্ডার আর্ম বল করার ভান করে শুরুটা দারুণ করেছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তখন তো ২০ ওভারের খেলাটাকে শুধুই বিমল আনন্দের জন্যই দেখা হচ্ছিল। কিন্তু পুরো ব্যাপারটা যে এমন জীবন-মরণ রূপ নিয়েছে, ক্রিকেটাররা যে এখন টেস্ট-ওয়ানডে ফেলে টি-টোয়েন্টিতে ‘খেপ’ খেলে বেড়াচ্ছেন, এর দায় তো ভারতের।

একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক। ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাট নিয়ে সবচেয়ে নাক উঁচু ভাব দেখিয়েছিল ভারত। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে খেলতে গিয়েছিল। তাও দলের সিনিয়র সব খেলোয়াড় স্বেচ্ছা বিশ্রাম নিয়েছিলেন এই অদ্ভুতুড়ে ক্রিকেট খেলার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে। কিন্তু যুবরাজ সিংয়ের ছয় ছক্কা ও মিসবাহ-উল-হকের একটি শট বাছাইয়ের ভুল পাল্টে দিয়েছে সব।

নতুন সংস্করণে নিজেদের বিশ্বসেরা হিসেবে খুঁজে পেয়ে ভারত দেরি করেনিÑআইসিএল, আইপিএল নামক দুটো টুর্নামেন্ট সৃষ্টি করে বিশ্ব ক্রিকেটকেই আরেকটি ক্যারি প্যাকার যুগ দেখানোর ভয় দেখিয়ে দিয়েছিল। স্বর্ণপ্রসবা আইপিএলের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অনেক অনিয়ম মেনে নিয়েছে। এই আইপিএলের জন্য অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা দণি আফ্রিকা দুই মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে থাকে। ভারত টি-টোয়েন্টিকে পাত্তা দেয় না?

আচ্ছা ধরে নেওয়া যাক, এটা অন্য দেশের ক্রিকেটারদের দোষ। ভারত তো আর তাঁদের বাধ্য করছে না আইপিএল খেলতে। কিংবা আইপিএলের আদলে কর্ণাটক লিগ ও অন্য ক্রিকেট লিগগুলোর কথাও ভুলে যাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় বোর্ডের আরেকটি সিদ্ধান্ত তো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

২০১৯ সাল থেকে চার বছরের নতুন এফটিপি শুরু হবে। ক্রিকেটের এই ভবিষ্যৎ সূচির জন্য ভারতের প্রস্তাবিত খসড়াটাই গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। সে প্রস্তাবে অনুমিতভাবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলছে দলটি। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রস্তাবে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে ওই পাত্তা না পাওয়া টি-টোয়েন্টি। আগামী চার বছরে মাত্র ৩৭টি টেস্ট খেলবে ভারত। সে তুলনায় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে ৬১টি।

বর্তমান এফটিপিতে ১৬২টি (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাদে) টি-টোয়েন্টি খেলার পরিকল্পনা আছে আইসিসির। বছরে প্রায় ৩২টি করে ম্যাচ ছিল গত পাঁচ বছরে। আর চার বছরের নতুন এফটিপিতে সে সংখ্যাটা দাঁড়াচ্ছে ২৬০। বার্ষিক ৬৫টি ম্যাচ। অর্থাৎ দ্বিগুণের বেশি। আবারও মনে করিয়ে দেওয়া যাক, নতুন ভবিষ্যৎ সূচির এ প্রস্তাব ভারতীয় বোর্ডেরই সুপারিশক্রমে।

টি-টোয়েন্টিকে নিয়ে যদি ভাবতে রাজি না-ই থাকে ভারত, তবে এত বাড়তি টি-টোয়েন্টি খেলার প্রস্তাব কেন?-প্রথমআলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ