প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার দরকার : অধ্যাপ ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

আশিক রহমান : শিক্ষা ব্যবস্থায় খুব ক্রাইসিস যাচ্ছে বলব না। তবে আরও ভালো অবস্থায় যেতে হবে। শিক্ষায় ব্যবস্থায় এখন যে অনিয়ম-দুর্নীতি দৃশ্যমান হচ্ছে তা প্রতিরোধে পথ খুঁজতে হবে। সেজন্য শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংস্কারগুলো কেন্দ্রীভূত করার পরিবর্তে বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে খুব সহজেই বাস্তবায়ন করা যাবে। এখন যেমন প্রায় সবকিছুই কেন্দ্রীভূত। সারাদেশে বই বিতরণ একদিনেই হয়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক সবগুলো পরীক্ষা একসঙ্গে কো-অর্ডিনেট কেন্দ্রীভূত পদ্ধিতে হয়। এ পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা দুটিই আছে। অসুবিধা হলো ক্লোজ মনিটরিং এবং সুপারভিশন যদি বিকেন্দ্রীকরণ করা হয় তাহলে সেটা খুব সহজ হবে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে আমরা শিক্ষার সংখ্যাতত্ত্বের দিকে জোর দিয়েছি বেশি। কিন্তু গুণগত মানের উৎকর্ষ সাধন, নৈতিকতার শিক্ষায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি। সেই শিক্ষাটা যদি আমরা দিতে না পারি শিক্ষার্থীদের, তাহলে তো তারা একটা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আর ছোটখাট সংস্কার দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না, শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় রকমের সংস্কার দরকার। সংস্কার করতে গেলে মেধাবী, সৃজনশীল দেশপ্রেমিক মানুষকে শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত শিক্ষা দেওয়ার কিছুটা চেষ্টা তারা করে। সার্বিকভাবে প্রাইমারি থেকে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতনভাতা অনেকখানি বাড়লেও সামাজিক মর্যাদার জায়গাটা বোধহয় আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। এই সম্মানটুকুতে যদি ঘাটতি হয় তাহলে তাদের সিনসিয়ারিটিতেও ঘাটতি হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষাবিদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে শিক্ষায় ব্যবস্থার অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের। কিন্তু সর্বাংশে সফলতা আসছে কিনা এ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম-দুর্নীতি, কিছুটা স্বজনপ্রীতি-দলপ্রীতি রয়েছে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। আমি মনে করি, দেশকে যারা ভালোবাসে, তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ভালোবাসবে। কারণ নতুন প্রজন্মের যারা আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে, কর্মক্ষেত্রে সর্বাংশে জড়িত থাকবে তারা আজকের শিক্ষার্থীরা। তাদের গড়ে তোলার দায়িত্ব সমাজের সবার। সেটা শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সরকারি পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত