প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: মানুষের ইবাদত কবুলের জন্য হালাল উপার্জন অত্যান্ত প্রয়োজন। উপার্জন হালাল না হলে বান্দার দোয়া ও ইবাদত কোনো কিছুই কবুল হয় না। তাই মুমিনের প্রধান দায়িত্ব হালাল উপার্জন করা এবং হারাম বর্জন করা। কিন্তু যথাযথ জ্ঞান না থাকায় অনেকেই জড়িয়ে পড়ে হারামের সাথে। ফলে নষ্ট হয় সারা জীবনের আমল ও ইবাদত।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের (ব্যবহারের জন্য) তৈরি করেছেন।’ (সুরা বাকারা-২৯)
আল্লাহ তায়ালা ফরজ ইবাদত শেষ করে জীবিকা নির্বাহে উপার্জন করার লক্ষ্যে জমিনে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন- ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনসন্ধান করবে এবং আল্লাহকে স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা-১০) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবি রহ. বলেন- ‘যখন নামাজ শেষ হয়ে যাবে, তখন তোমরা ব্যবসায়িক কাজকর্ম ও অন্যান্য পার্থিব প্রয়োজনাদি পূরণে বেড়িয়ে পড়। (জামিউ লিআহকামিল কুরআন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ কুরতুবি-১৮/৯৬)
ব্যবসার ক্ষেত্রে যদি কখনো আল্লাহর স্মরণে ব্রত হওয়ার আহবান আসে, তাহলে তখন যাবতীয় ব্যবসায়িক কর্ম পরিহার করা সকল ঈমানদারদের জন্য ওয়াজিব (সুরা জুমা-৯)। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা. উৎসাহিত করেছেন এবং ভিক্ষাবৃত্তিকে তিনি নিন্দা করেছেন। এ মর্মে যুবায়ের ইবনে আউয়াম রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. বলেন- ‘তোমাদের কেউ তার রশি নিয়ে চলে যাক, পিঠে কাঠের বোঝা বহন করে এনে বিক্রয় করুক এবং তার চেহারাকে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচিয়ে রাখুক এটা তার জন্য মানুষের নিকট ভিক্ষা করা, চাই তাকে দান করুক বা না করুক তার চেয়ে উত্তম।’(মুসলিম-১০৪২) তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষের কাছে চেয়ে বেড়ায় সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আগমন করবে যে, তার মুখম-লে এক টুকরো গোশতও থাকবে না।’ (মুসলিম-১০৪০) হজরত রাফে ইবনে খাদিজা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সা. কে জিঙ্গেস করা হয়েছিল যে, সর্বোত্তম উপার্জন কোনটি? জবাবে তিনি বলেন- ব্যক্তির নিজস্ব শ্রমলব্দ উপার্জন ও সততার ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয়। (মুসনাদে আহমদ-৪/১৪১) তাই সকল নবী রাসুল (সা.) গণও শ্রমজীবী ছিলেন। নিজর ঘামঝড়ানো হালাল উপার্জন বক্ষণ করতেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত