প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাতভর মাদক সেবন করে ভোরে ছিনতাইয়ে নামে ওরা

ডেস্ক রিপোর্ট  : রাতভর মাদক সেবন করে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতেই ছিনতাইয়ের জন্য রেব হয় ভোর বেলায়। রাজধানী ঢাকার ভোর বেলার রাজপথে এভাবেই ছিনতাই করে চলছে ছিনতাইকারী চক্র। রাজধানীর দয়াগঞ্জে ছিনতাইকালে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশু নিহতের ঘটনার মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এসব কথা বলেছে ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান আসামি ছিনতাইকারী রাজীব।

সাবধান ! রাজধানীর ৪৯ থানা এলাকার অন্তত ২ শতাধিক স্পটে ওঁৎ পেতে থাকে ছিনতাইকারী চক্র। এর মধ্যে ভোর বেলায় সদরঘাট লঞ্চঘাট, কমলাপুর রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে যাতায়াতকারী যাত্রীরা হচ্ছে ছিনতাইকারী চক্রের টার্গেট। রাতভর মাদক সেবন করে ছিনতাইকারী চক্র কাকভোরে নামে ছিনতাইয়ে। ছিনতাই তো হচ্ছেই, বাধা দিলেই হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত। লঞ্চঘাট, টার্মিনালসহ রাজধানীর দুই শতাধিক ছিনতাই স্পটে প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে রাজধানীর ছিনতাইকারী চক্র বিরোধী অভিযানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। রাজধানীর দয়াগঞ্জে ছিনতাইকালে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশু নিহতের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ছিনতাইকারীসহ অপরাধী গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়। ছিনতাইয়ের সময় মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশু নিহতের ঘটনায় ছিনতাইকারী দলের প্রধান আসামি রাজীবকে গ্রেফতারসহ এক ডজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাইকারী দলের প্রধান রাজীবকে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ছিনতাইকারী রাজীব জবানবন্দীতে বলেছে, ছিনতাই করা এখন তার কাজ। ২০ বছর ধরে সে রাজধানীতে ছিনতাই করে বেড়াচ্ছে। সতেরো বছর বয়সে বিয়ে করে। তার স্ত্রীকেও কেড়ে নেয় অন্য ছিনতাইকারী। এখন তার অন্য সংসার। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে আছে। কিন্তু সুখ-শান্তি নেই। ছিনতাইয়ে মাসে রোজগার লক্ষাধিক টাকা। কিন্তু মাদকের পেছনেই সব শেষ। রাজধানীর দয়াগঞ্জে যেই ভোরে ছিনতাই করার আগে রাতভর মাদক সেবন করে। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতেই ছিনতাই করে বেড়ায়। ইয়াবা, গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার নেশার মতোই ছিনতাই করাও তাদের নেশা-পেশা। কয়েক মাস আগে জেল থেকে ছাড়া পায় রাজীব।

যেভাবে ছিনতাই করে আসামি রাজীব তার বর্ণনা দিয়েছে। খুব ভোর বেলায় টার্মিনাল-স্টেশনে যাত্রীরা যাতায়াত করে। রাজধানী ঢাকা ভোর বেলা থাকে নিরিবিলি। এই ফাঁকে রিক্সারোহী, পথচারীদের গতিরোধ করে ছিনতাই করে বেড়ায় তারা। এ ছাড়াও চলন্ত গাড়ি যাওয়ার সময় খোলা জানালার দিকে খেয়াল রাখে কেউ মোবাইলে কথা বলছে কিনা, তা দেখে চুপিসারে এগিয়ে যায়। যাওয়ার আগে পালাবার রাস্তাটাও ঠিক করে নেয়। গাড়ির কাছে গিয়েই ছোঁ মেরে নিয়ে নেয়। একইভাবে ছিনিয়ে নেয় নারীদের কানের দুল, গলার হারও। কয়েকজন মিলেও করে ছিনতাইয়ের কাজ। দু’জন যানজটে আটকেপড়া বা ধীরগতিতে চলা গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সুযোগ পেলেই পথচারী বা যাত্রীর ব্যাগ নিয়ে সটকে পড়ে। তা সম্ভব না হলে একজন কৌশলে ব্যাগের চেইন খুলে ফেলে। অন্যজন পরিস্থিতি বুঝে ব্যাগের ভেতরের টাকা ও মোবাইল নিয়ে সরে পড়ে। শুধু তাই নয়। অনেক সময় পিস্তল এবং ছুরি নিয়েও কাজ করতে হয়। তবে বেশির ভাগ সময় ব্যবহার করতে হয় ক্ষুর ও ব্লেড। এছাড়া গাড়িতে চড়ে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে বড় বড় ছিনতাইয়েও যেতে হয়। তবে ছিনতাইয়ের টাকা- ওই টাকা থাকে না। মাদকের পেছনে খরচ হয়ে যায়।

ডিএমপির সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনার সুনির্দিষ্টভাবে পুলিশের কাছে তথ্য বা পরিসংখ্যান নেই । কারণ ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া সত্ত্বেও মানুষ বাধ্য না হলে থানায় গিয়ে কোন অভিযোগ করেন না হয়রানির ভয়ে। অনেকে ছোট খাটো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও থানায় বিষয়টি অবহিত করেন না। ফলে ছিনতাই বৃদ্ধির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কাছেও অনেকাংশে অজানা থেকে যাচ্ছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিমাসে রাজধানীতে ২০ থেকে ২৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের হিসাব মতে, ছিনতাইয়ের প্রকৃত ঘটনা পুুলিশের হিসাবের চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি অর্থাৎ শতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা, বাড্ডা, বনানী, খিলক্ষেত, ভাসানটেক, মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, গুলিস্তান, রামপুরা, হাজারীবাগসহ মহানগরীর থানা এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক ছিনতাইয়ের স্পটগুলোতে মোটরসাইকেলে, মাইক্রোবাসে ও অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ছিনতাই হচ্ছে। ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনে এসব ছিনতাইয়ের স্পট আর জায়গায় সক্রিয় রয়েছে ছিনতাইকারী চক্র।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেছেন, ছিনতাইসহ সকল অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এলাকাভিত্তিক ছিনতাইয়ের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাস্তায় টহল আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকার দুই শতাধিক এলাকা বা স্পটকে শনাক্ত করা গেছে। এসব এলাকায় কারা ছিনতাই করছে তা খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ ও ডিবি। হালনাগাদ করা হচ্ছে ছিনতাইকারীদের তালিকা। ছিনতাইকারী চক্রসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ছিনতাইকারী চক্রের অনেক সদস্যসহ অপরাধী চক্রের সদস্যরা অভিযানের জালে আটকা পড়ছে।

জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত