প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের আমলেই সর্বোচ্চসংখ্যক সচিব ঃ তবু চিন্তা প্রশাসন নিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট  : আনুগত্য আছে এমন সচিবের সংখ্যা মাত্র চারজন। অথচ এ সরকারের আমলেই সর্বোচ্চসংখ্যক কর্মকর্তা সচিব হয়েছেন আওয়ামী ঘরানার পরিচয় দিয়ে।

সারা বছরই পদোন্নতি লেগে ছিল। সুযোগ-সুবিধারও কমতি ছিল না। প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারকে সর্বোচ্চ দেওয়ার পরও মাঠ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের চিন্তা তাদের ঘিরেই। কুমিল্লা ও রংপুরে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিল প্রশাসন। আওয়ামী লীগের অনেক মাঠের এমপি মনে করেন এই নিরপেক্ষতা অব্যাহত থাকলে সামনে অন্যান্য সিটি ও সংসদ নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়বে সরকারি দলের জন্য।

কথায় কথায় প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনে কাজ করার জন্য চারজনের বেশি সচিবকে খুঁজে পাওয়া যাচেচ্ছ না। বিশ্বস্ত খুঁজতে গেলে দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য আছে এমন সচিবের সংখ্যা মাত্র চারজন। অথচ এ সরকারের আমলেই সর্বোচ্চসংখ্যক কর্মকর্তা সচিব হয়েছেন নিজেদের আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে। সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন সর্বোচ্চটুকু। সুবিধা নেওয়া বেশির ভাগ সচিবই এখন নিজেদের আড়াল করে রেখেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক মেরুকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাদের দৃষ্টি। শুধু সচিব নয় এ সরকারের সময় পদোন্নতি পাওয়া সিংহভাগ কর্মকর্তাই এখন কথিত নিরপেক্ষ ভাবধারার সচিবদের অনুসরণ করছেন। সম্প্রতি আগামী নির্বাচন ঘিরে তিনজন সচিব আলাদা করে কাজ করতে গিয়ে সমমনা আর খুঁজে পাচ্ছেন না। এর মধ্যে একজন বললেন, পুলিশে শীর্ষ পর্যায়ে অনেক কর্মকর্তা আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে থাকলেও প্রশাসনে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত কর্মকর্তার সংখ্যা নেই বললেই চলে। এই সচিব আরও বলেন, সরকারি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের একজনকে পুরো বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন সবকিছু দেখবেন। নির্বাচনের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আস্থা পাচ্ছেন না সরকার সমর্থক কর্মকর্তারা।

সূত্রমতে, সচিবালয়ের ভিতরে কর্মকর্তাদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে। তারা গবেষণা করছেন ভোটারদের মনোভাব কোন দিকে যাবে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে অনেক কর্মকর্তাই রং বদল করেছিলেন। তারাও ফের তৎপর। এর মধ্যে পদোন্নতিবঞ্চিতরা রয়েছেন সময়ের অপেক্ষায়। তাদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। আবার বিএনপি আমলের মন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা কেউ কেউ সচিবও হয়েছেন। আবার সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করছেন অনেকে। যার বেশির ভাগই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা। ২০১৮ সালে এই কর্মকর্তারা কোন রূপ ধারণ করবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কিছু দিন আগে একাধিক সংস্থা কর্মকর্তাদের একটি দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেছিল যার বেশির ভাগ ছিলেন বিএনপি-জামায়াত সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা, যারা এখনো ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তাদের কারণে হতাশ ও ক্ষুব্ধ একসময় ছাত্রলীগ করা অনেক কর্মকর্তা। তথাকথিত নিরপেক্ষতার নামে যারা পদোন্নতি পাচ্ছেন তার বেশির ভাগই সরকারের আস্থাভাজন নন। তাদের আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের প্রভাবশালী কিছু সচিবের হাত ধরে তারা একের পর এক ভালো নিয়োগ ও পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে কারও কারও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার ক্ষেত্রে। এই কর্মকর্তারা আগামী বছর কোন দিকে যাবেন কেউ জানেন না। সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল কর্মকর্তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে কী দাঁড়াবে কিছুই স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে মাঠ প্রশাসন এখনো অগোছালো। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রকাশ্যে সরকারের বিভিন্ন নিয়ম-নীতির বিপক্ষে। এর মধ্যে অনেকে সরাসরি মন্ত্রী-এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সরকারদলীয় উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। সেদিন দুঃখ করে নোয়াখালীর এক এমপি বললেন, ‘প্রশাসন যে কার কথা শোনে কিছুই বুঝি না। কোনো সমন্বয়কারীও নেই যার কাছে গিয়ে বিচার দেব।’ এমপি-মন্ত্রীরা অনেক সময় প্রশাসনের অসহযোগিতায় নিজেরা অসহায়বোধ করেন। দুঃখ ভাগাভাগি করেন একে অন্যের সঙ্গে। কিন্তু বাস্তবিকভাবে কারও কাছে গিয়ে কথা বলতে পারেন না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকেও অনেক জেলা প্রশাসক পাত্তা দেন না। এমনকি উন্নয়ন নিয়ে অনুরোধ করলে তারা শোনেন না। কোনো কোনো জেলা ও উপজেলায় পুলিশও একই রকম আচরণ করে থাকে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের অবস্থাকে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ ও হুমকি মনে করেন অনেক নেতা। সরকারের একজন সচিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনে যে হারে সরকারবিরোধী কর্মকর্তাদের দাপট বেড়েছে তাতে এখনই হাল না ধরলে খেসারত দিতে হবে। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনকে এখনই গোছানোর ওপর জোর দেন ওই তিনি।

উৎসঃ বিডি-প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত