প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানিকগঞ্জে
পিইসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর ফাঁস! (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রায়ই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কথা শোনা যায়। এবার মানিকগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর ফাঁস করার অভিযোগ উঠেছে।

ফাঁস করা কোড নম্বর অনুসরণ করে বের করা হয়েছে উত্তরপত্রের নিরীক্ষককে। তাঁকে ম্যানেজ করে একজন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে নম্বর ৬১ থেকে ৮০ করার চেষ্টা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কয়েক কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের একটি সিন্ডিকেট। একটির প্রমাণ পাওয়া গেলেও এই সিন্ডিকেট টাকা নিয়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষে প্রতিটি উত্তরপত্রের একটি করে কোড নম্বর দেওয়া হয়। কোড নম্বর দেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার ১৫ সদস্যের পরীক্ষা কমিটি। এর প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্যসচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। কোড নম্বরটি সংরক্ষিত থাকে এই দুজনের কাছে। সাধারণত একটি উপজেলার খাতা (উত্তরপত্র) অন্য একটি উপজেলার শিক্ষক দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়।

নিরীক্ষক কোড নম্বর না জানার ফলে তিনি কোনো পরীক্ষার্থীর জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে পারেন না। নম্বর দেওয়ার পর তিনি অনুস্বাক্ষর করেন। এরপর প্রধান নিরীক্ষকের দুজনের একটি প্যানেল ওই উত্তরপত্র নিরীক্ষা করেন। তাঁরাও নিরীক্ষা করে অনুস্বাক্ষর করেন। পরে সেই উত্তরপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হাত ঘুরে পৌঁছে যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোড নম্বর ফাঁস করে গত পিইসি পরীক্ষায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ডাউটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রে তার প্রাপ্ত নম্বরের চাইতে বেশি যোগ করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর মামা আলম হোসেন সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কোনোভাবে তাঁর ওই আত্মীয়র (শিক্ষার্থী) ইংরেজি বিষয়ে উত্তরপত্রের কোড নম্বর জেনে নেন এবং ওই খাতার নিরীক্ষক পাট তিল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক টিপু সুলতানের খোঁজ বের করেন। তাঁরা পরস্পরের পরিচিত। আলম তাঁর আত্মীয়র কোড নম্বর দিয়ে টিপু সুলতানকে অনুরোধ করেন ৮০-এর বেশি নম্বর দেওয়ার জন্য। অনুরোধ রক্ষা হলে টিপুকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। কিন্তু টিপু এতে রাজি হননি। তিনি ওই শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র নিরীক্ষা করে ৬১ নম্বর দিয়ে অনুস্বাক্ষর করে প্রধান নিরীক্ষক মহিষালোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান ও কামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের কাছে পাঠান।

টিপু সুলতান জানান, তিনি সব উত্তরপত্র নিরীক্ষা শেষে গত ২৯ নভেম্বর প্রধান নিরীক্ষক সাইদুর রহমান ও মোশারফ হোসেনের কাছে পৌঁছে দেন। কিন্তু পরের দিন (৩০ নভেম্বর) জরুরিভাবে তাঁকে ডেকে পাঠান সাইদুর। টিপু উপস্থিত হলে তাঁকে ওই শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রে নম্বর বাড়ানোর অনুরোধ করেন সাইদুর। তিনি দেখেন, উত্তরপত্রে তাঁর অনুস্বাক্ষর করা ৬১ নম্বর কেটে ভিন্ন কালিতে ৮০ করা হয়েছে। সাইদুর উত্তরপত্রের কাটাকুটি স্থানে অনুস্বাক্ষর করতে অনুরোধ করেন। টিপু জানান, তিনি এতে রাজি হননি। বরং উত্তরপত্রে কাটাকুটি করে কেন নম্বর বেশি দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁকে রাজি করাতে না পেরে সাইদুর বাধ্য হয়ে ৮০ নম্বর কেটে আবার ৬১ লিখে তাতে অনুস্বাক্ষর করতে বলেন। টিপু জানান, এ সময় উপস্থিত বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সামনে তিনি নতুন করে লেখা ৬১ নম্বরের পাশে অনুস্বাক্ষর করেন।

এ ব্যাপারে আরেক প্রধান নিরীক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, টিপু সুলতানকে নম্বর বেশি দেওয়ার জন্য সাইদুর রহমানের অনুরোধের বিষয়টি তিনি জানেন। তাঁকেও এ বিষয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করেন সাইদুর।

যোগাযোগ করা হলে সাইদুর রহমান বলেন, তিল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলম হোসেন তাঁর ওই আত্মীয়র উত্তরপত্রে নম্বর বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। আলমকে তিনি নিরীক্ষক টিপু সুলতানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। উত্তরপত্রে নম্বর বাড়ানোর সঙ্গে তিনি তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করলেও কে বাড়িয়েছে—সে ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি। আলম কিভাবে কোড নম্বর পেলেন এবং তা জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন কি না, সে ব্যাপারেও সাইদুর সদুত্তর দিতে পারেননি।

আলম হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁর আত্মীয়র উত্তরপত্রে নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে কারো সঙ্গে তিনি কথা বলেননি। এমনকি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাইনুল হক বলেন, এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এটি সাটুরিয়া শিক্ষা অফিসের ব্যাপার নয়। কোড নম্বর ফাঁস হলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে হয়েছে। কোড নম্বর ফাঁস হওয়া গুরুতর বিষয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা উচিত।

অভিযোগটি ‘অসম্ভব’ বলে উড়িয়ে দেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাইম মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোড নম্বর ফাঁস হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আর অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবহিত নই। ’

সূত্র : কালের কণ্ঠ/ যমুনা টেলিভিশন

https://youtu.be/aqVNfZStyQA

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত