প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশেষ সাক্ষাৎকারে কাজী রিয়াজুল হক
গুম-খুন-অপহরণের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন

আশিক রহমান : গুম হওয়ার পর যারা ফিরে আসছে, তাদের যে মেরে ফেলেনি, যে-ই নিয়ে যাক না কেন তা মন্দের ভালো। মেরে ফেললে তো আর পেতাম না। তাদের এই ফিরে আসার পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গণমাধ্যম প্রত্যেকটি ঘটনা ঘটনার সঙ্গে তা তোলে ধরেছে। এছাড়া বেসরকারি সংগঠনগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেÑ আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
তিনি বলেন, গুম, নিখোঁজ বা অপহরণের যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃজনক। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কারণ একজন মানুষ যখন অপহরণের শিকার হয়, তারপর যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে, যেখানে তাকে রাখা হয়, শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণা তাকে ফেস করতে হয়। যেমন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. মোবাশ্বর হাসান সিজারের কথা বলতে পারি। তিনি তার মন্তব্যে বলছেন, আটক থাকা অবস্থায় পাশের রুমে যে আলোচনাগুলো শুনেছেন, তারা কেউ বলেছে তাকে বাঁচিয়ে রাখার যুক্তি নেই, কেউ বলেছে অন্য কথা। তাদের মধ্যে দ্বিমত ছিল। এই যে তাকে মেরে ফেলবে কি ফেলবে না তা নিয়ে আলোচনা তার কানের মধ্যে এসেছে, এর ফলে তার মনের ওপর যে একটা প্রভাব পড়েছে, যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিল, সারাজীবন এই যন্ত্রণা তাকে বয়ে বেড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গুম, খুনের ঘটনাগুলো প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে ব্যর্থ বলব না। তবে তা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া গুম-খুনের ঘটনায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ, সর্বোত্তম প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাষ্ট্রে যেহেতু গুমের ঘটনাগুলো ঘটছে, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। গুম-খুনের ঘটনা বন্ধে সরকারি পদক্ষেপ আরও অনেক বেশি করে নিতে হবে। সরকারকে এই মর্মে সিদ্ধান্ত হবে যে, একটা গুম ঘটতে দিব না। একটা মানুষকেও নিখোঁজ হতে দিব না। নিখোঁজ হওয়ার আগেই আমরা এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করব যাতে নিখোঁজ কিংবা অপহরণ হতে না পারে মানুষ।
এক প্রশ্নের জবাবে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সারা পৃথিবীতেই এখন মানবাধিকারের জায়গাটি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় মানবাধিকারের ঘটনাগুলো ঘটছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে জাতিসংঘ থেকে যেটা বলা হয়েছে, তারা তা নিয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে যে লোকগুলো গুম বা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে তা কোনোক্রমেই ছোট করে দেখছি না। দেখার সুযোগও নেই। এসব আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেভাবেই তা দেখতে হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্রই ছিলÑ সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা। একজন মানুষ অপহরণ, গুম হয়ে যায় তখন সেই বিচারের ক্ষেত্রে বিচারটি পাচ্ছে না। স্বাধীন দেশে মানবিক মর্যাদা প্রতি পদে পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানুষের জীবন প্রতিমুহূর্ত হুমকির মধ্যে থাকছে। অনেকের তো জীবন চলেই যাচ্ছে। আর যারা ফিরে আসছে তারা একটা অর্ধমৃত অবস্থায় ফিরছে। তিনি আরও বলেন, যদি কাউকে নিয়ে যেতে দেখি, তখন আমাদের সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে হবে। গুমের অনেক ঘটনা দিনের বেলায় সংঘটিত হয়েছে। রাতের অন্ধকারেও হয়। এমন ঘটনা ঘটতে দেখলে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে ছবি তুলে রাখতে হবে। এছাড়া ঘোলা পানিতে মাছ ধরার অপচেষ্টা যারা চালায় সেটাও বন্ধ করতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই চেয়ারম্যান বলেন, মানুষকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার জন্য, কাউকে অপহরণ বা গুমের মতো ঘটনাগুলোর সম্মুখিন যাতে হতে না হয়, এই জাতীয় উৎকণ্ঠার মধ্যে যাতে না পড়ে মানুষ, এই জিনিসগুলো নিশ্চিত করার জন্য সেই পরিবেশ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে যে, আমরা গুম-খুনের ঘটনাগুলোকে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসতে চাই। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন, মানুষদের মধ্যেও এই প্রতিশ্রুতিটা থাকতে হবে যে, একটা সুন্দর দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম, যে সুন্দর দেশের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন তা কায়েম করার জন্য সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত