প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমাজ সংস্কারে ইসলামের আদর্শ

মু.ইলিয়াস আলমগীর : আমাদের দেশে চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে,কাজের ফাঁকে,অফিসের লাঞ্চ আওয়ারে,ধ্যানীদের উন্নত চিন্তা বিষয়ক আলোচনায়,সাধারণ মানুষ কিংবা বুদ্ধিজীবী সবর্ত্রই সমকালীন চটকদার রাজনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে বিষয়টা বড় জীবন্ত একটি বিষয়, সামাজিক সংস্কার প্রসঙ্গ ! এবিষয়ক আলোচনা প্রতিদিন নতুন নতুন যে অধ্যায় রচনা করে তার একটা ছোট পাতা অনেকটা এমন নাহ সমাজটা একেবারে নষ্ট গেছে,আর চলে না! জ্ঞানীর কদর নাই,সততার, শিক্ষার মূল্য নাই! এই নাই ওই নাই! এসমাজের আমূল সংস্কার সংশোধন দরকার! ইত্যাদি ইত্যাদি।

সমাজ সংস্কারের এই কথা আমরা টকশোতে শুনি,শিক্ষকের লেকচারে শুনি,ধর্মীয় বিদ্বানদদের উপদেশে শুনি,সেমিনার-সেম্পোজিয়ামে শুনি,শুনি পাড়ার সবচেয়ে খারাপ লোকটার মুখেও ,সবিশেষ সবার কাছেই শুনি। কিন্তু এই তৎপরতায় সমাজে সংস্কার খুব হালকাভাবেও শব্দিত হয় বলে মনে হয় না। অথচ সবার নিকটই কাংখিত এই সংস্কার,এই অবক্ষয়ের সামাজিক সংশোধন! তবু কেন এর আবেদন ও আরশীতে আমরা স্পন্দন খুঁজে পাই না? এই ছোট প্রশ্নটা এখানেই রাখলাম।

এবার আসুন আপনাদের নিয়ে যাই ইসলামী সমাজব্যবস্থায়! আল্লাহ তায়ালা সূরা মায়েদায় বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের কথা ভাব’। সূরা বাকারায় বলেছেন, তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর আর নিজেরাই তো ভুলে যাও’।দুটো বাণীর সহজ পাঠোদ্ধারে আমরা বুঝি সমাজ সংস্কারের সূচনা হবে ব্যক্তির নিজ অঙ্গন থেকে নিজের উঠোন থেকে,নিজের মন,চরিত্র থেকে ব্যক্তিগঠনের মাধ্যমে। কে না জানে যে ব্যক্তির সামষ্টিক রুপই হচ্ছে সমাজ! সুতরাং ব্যক্তির সংস্কারই সামাজিক সংস্কারের মূল স্তম্ভ! ব্যক্তির নৈতিক সংশোধনই সামাজিক সংশোধন। এখানেই মূলত ইসলামী আদর্শের সাথে আমাদের কাংখিত সংস্কারের দূরত্ব! ইসলাম সামাজিক সংস্কার শুরু করে প্রতিটি ব্যক্তির নিজের নৈতিকতা এবং চরিত্র গঠন দিয়ে,আর আমরা সংশোধন শুরু করি অন্যকে দিয়ে! যে নিজের সংশোধন না করে অন্যকেই দোষারোপ করে তার সম্পর্কে প্রিয় নবীর দ্বীপ্তিময় বাণী শুনুন,তিনি বলেছেন, যে অন্যের উপর আপত্তি করে বলবে যে,মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে,সর্বাধিক ধ্বংসিত ব্যক্তি সে নিজে! কি চমৎকার শাসনে ব্যক্তি গঠনের উর্বর চাষ!

সমাজ সংস্কার শুরু হবে প্রত্যেকের নিজস্ব আঙিনা থেকে অন্যের প্রতি উন্নাসিকতায় নয়! ইসলাম ধর্মের এই অমলিত শ্বাশ্বত শিক্ষাই সাহাবায়ে কেরামকে নিজেদের সংশোধনে সদা তৎপর রাখত!ইসলামের এই ভাষা কি চমৎকারভাবে অনূদিত হয়েছে সাহাবীদের জীবনে! ব্যক্তিগত সংশোধনের তৎপরতায় সাহাবায়ে কেরামের ইতিহাস কি বিস্ময়কর সমৃদ্ধ তার দু একটা উদাহরণ আসুন দেখি! সাহাবী হযরত হানযাল দৌঁড়ে রাসূলের দরবারে এসে কাতর কন্ঠে বললেন,ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি মুনাফিক হয়ে গেছি! রাসূল স:বললেন কিভাবে? তিনি বললেন,আমি আপনার দরবারে থাকলে আপনার কথা শুনে হৃদয়ে নিজেকে আরো উত্তম করার স্পৃহা জাগে,কিন্তু এখান থেকে চলে গেলে সকল আবেগ-উদ্দীপনা চলে যায়! সুবহানাল্লাহ! সরল স্বীকারুক্তিতে নিজেকে সংস্কারের কি তীব্র বাসনা! কী আশ্চর্য দেখুন,ইসলামের এই শিক্ষার বিভায় হযরত ওমরের মতো সাহাবীও নিজেকে নিয়ে তটস্থ থাকতেন তিনি মুনাফিক হয়ে যাননি তো! ব্যক্তিগঠনের এমন অবাক করা অসংখ্য দৃষ্টান্তে সুসজ্জিত ইসলামী ইতিহাস! তাদের এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক তৎপরতাই তো সেই যুগকে সোনালি যুগের উপাধী এনে দিয়েছিল! এই হচ্ছে সমাজ সংস্কারের ইসলামী আদর্শ! প্রদীপ থেকেই প্রদীপ জ্বলে! আর প্রতিটি প্রদীপেই আলোকিত হবে সভ্যতার নিস্প্রভ তোরণ! এটাই ইসলামের গৌরবময় ঐতিহ্যের আলোকরেখা! লেখক: কবি ও কলামিস্ট ইবি,কুষ্টিয়া

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত