প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লোকসানি শাখা কমলেও বাড়ছে খেলাপি ঋণ

শিমুল : রাষ্ট্রীয় মালিকানার ছয়টি ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কমেছে। তবে গত এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি লোকসানি শাখা রয়েছে সোনালী ব্যাংকের, এর পরই অবস্থান অগ্রণী ব্যাংকের। এর পরে রয়েছে রূপালী ও জনতা ব্যাংকের। এছাড়া সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকেরও (বিডিবিএল) লোকসানী শাখা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদেন এমন তথ্য দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত জুন শেষে সরকারি ছয় ব্যাংকের মোট শাখা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭১০টি। এদের মধ্যে লোকসানি শাখার সংখ্যা ৫৩৩টি। গত বছরের জুন শেষে ছিল ৬৪২টি। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে লোকসানি শাখা কমেছে ১০৯টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ২৮৫টি, অগ্রণী ব্যাংকের ১১৬টি, রূপালী ব্যাংকের ৭৪টি ও জনতা ব্যাংকের ৫৮টি শাখা লোকসানে রয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণ বেড়েছে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। যা বিতরণ হওয়া ঋণের ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের জুনে এ পরিমান ছিল ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। আর পরের প্রান্তিক সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। যা বিতরণ হওয়া মোট ঋণের ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। এক বছর আগে এ খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ২৩ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ছয় হাজার ১৫৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আট হাজার ১৮৭ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের প্রায় চার হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। তবে অবলোপনকৃত খেলাপি মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি বলে আমাদের লোকসানে পড়তে হয়। সংগৃহীত আমানতের খুব কম অংশই ঋণ বিতরণ করতে পেরেছি। আয় বাড়াতে হলে ঋণ বিতরণ বাড়াতে হবে। নানা কারণে ঋণ বিতরণ বাড়ানো যাচ্ছে না। নিয়মের মধ্য থেকে ঋণ বিতরণ বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেশকিছু গ্রাহক ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। এসব কারণে ব্যাংকের আয় কমে গিয়ে লোকসানে পড়তে হচ্ছে।

রূপালী ব্যাংকের এমডি মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, একদিকে বেতন বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ঋণের সুদ হার কমছে। আবার খেলাপি ঋণ বাড়ছে। সব মিলিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। এ জন্য লোকসানি শাখা কমছে না। ইত্তেফাক থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত