প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগে আতিক, বিএনপিতে তাবিথ লড়বেন ঢাকা সিটিতে

মাইকেল : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করেছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেখে বিএনপিও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। শেষ পর্যন্ত আবদুল আউয়াল মিন্টু নন, তার পুত্র তাবিথ আউয়ালই সেই পদে মনোনয়নের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন। এর মধ্যে মিন্টু পরিবার মাঠেও নেমেছে।

গত মেয়র নির্বাচনে তাবিথ বেলা ১১টায় নিজেকে প্রত্যাহার করলেও পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট। প্রথমদিকে বিএনপির প্রচারণা ছিল বিপক্ষ প্রার্থী বেশি হেভিওয়েট হলে মিন্টু নিজেই ভোট করবেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ শুরু করেছেন আতিকুল ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগে নতুন হলেও ব্যবসায়ী হিসেবে জনপ্রিয়তা নিয়েই বিজিএমইএ সভাপতি হয়েছিলেন। নির্বাচনে নিজের ব্যবসায়িক ইমেজ তিনি কাজে লাগাতে চান।

গত ৩০ নভেম্বর লন্ডনে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মেয়র আনিসুল হক মারা যান। এরপর ৪ ডিসেম্বর মেয়রের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। ফলে ৯০ দিনের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনে কিছু আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০১৫ সালে ব্যবসায়ী আনিসুল হককে সমর্থন দিয়ে চমকে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তার মৃত্যুর পর থেকেই কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল ক্ষমতাসীন দলে। গতবারের মতো এবারও চমক আছে, সেটা জানিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর বেশ কিছু নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে গণমাধ্যমে। এর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। গতবারের নির্বাচন নির্দলীয় হলেও এবার হবে দলীয়ভাবে। অন্যদিকে বিএনপি গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকেই বেছে নিচ্ছে এবারও।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হলেও ঢাকা উত্তর সিটিতে জয়ী হতে চায় দল। কোনো কারণে ফলাফল ভিন্ন হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাবে। কারণ রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকায় ২০১৫ সালে বিএনপির হরতাল-অবরোধ চলাকালে সারা দেশে ব্যাপক নাশকতা-সহিংসতা হলেও তারা ঢাকায় কিছু করতে পারেনি। এবার সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হলে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা হবে মাঠের বিরোধী দল। সে কারণেই আওয়ামী লীগ উপনির্বাচনে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নিতে চায়। তাই ব্যবসায়ীদের নেতা আতিকুল ইসলামকে মেয়র বানানোর পক্ষে দলের নীতিনির্ধারকদের অবস্থান।

দলটির নেতাদের ধারণা, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ঢাকা উত্তর সিটির জনগণ তাকে ভালোভাবে গ্রহণ না-ও করতে পারে। সে কারণে ব্যবসায়ী মহলে সুপরিচিত, ভালো ভাবমূর্তি রয়েছে, একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে, এমন প্রার্থীকেই এবারও বেছে নিতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এদিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন আতিকুল ইসলাম। ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে তাকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এই ব্যবসায়ী নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গত শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাদের মতামত দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের জানান, চার শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতার অবস্থান ভালো। এ সময় বৈঠকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান জানান, তাঁর সঙ্গে প্রার্থী হতে আগ্রহী অনেকেই দেখা করেছেন। আগ্রহ দেখিয়েছেন। গণমাধ্যমেও অনেক নাম এসেছে। তিনি অনেকগুলো নামও বলেন। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আতিকুল ইসলাম লোকটা কেমন? দলের নীতিনির্ধারকরা এটাকেই সবুজ সংকেত হিসেবে মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দলীয় প্রধানের সঙ্গে দেখা করার পরই আতিকুল ইসলাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে রাজধানীর ফার্মগেট, বিজয় সরণি ও মিরপুর এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন। আতিকুল ইসলাম নিজেও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দলের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সে কারণেই তিনি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করছেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার নির্বাচন দেবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান দলটির নেতারা। সে কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে হাঁকডাক নেই দলটির মধ্যে। তবে নির্বাচন হলে প্রার্থী দেবে। ইতিমধ্যে প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত মেয়র নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল বেলা ১১টায় নিজেকে প্রত্যাহার করলেও ভোট পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট। এবার তাকে প্রার্থী করা হলে ভোটারের সহানুভূতি কাজ করবে বলে মনে করেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা হওয়ায় বিএনপিও তরুণ ব্যবসায়ীকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। তাবিথ আউয়ালের বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যে মিন্টুর পরিবারের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত