প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্কুলশিক্ষক থেকে নগরপিতা

ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এক সময় স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। যে স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেছিলেন, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সেই কোমরগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও নব্বই দশকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন মোস্তফা। সেই রাজনীতি ধরেই গত ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে পরাজিত করে নগর পিতা হন মোস্তফা। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এ সিটির প্রথম নির্বাচনে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর কাছেই ২৮ হাজার ৪৫০ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন মোস্তফা।

মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের যাদবপুর এলাকায় তার বাড়ি। ১৯৭৫ সালে কোমরগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে রংপুর কারমাইকেল কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হন। শহরের কলেজ রোডে তার মামা কারমাইকেল কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান আবদুস সালেকের বাসায় থেকে পড়ালেখা করতেন। ১৯৭৯ সালে ওই কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক করার পর কিছুদিন টিউশনি করেছেন। ১৯৮৩ সালে কোমরগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। আড়াই বছর শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ফের মামার বাসায় এসে টিউশনি করাতেন। টিউশনির পাশাপাশি ৮৮-৮৯ সালে রংপুর বিদ্যুৎ বিভাগে ঠিকাদারি শুরু করেন।

মোস্তফা জানান, ৯০ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যখন কারাগারে যান, তখন তার মুক্তির আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। ৯৪ সালে রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য হন। পরে রংপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হয়ে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রংপুর সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৪ সালে ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে’ আসেন এবং গত বছর তাকে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তফা বলেন, আমি স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। গ্রামে জন্ম নিয়েছি। বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছি। এতদিন সে আদর্শ লালন করে পথ চলছি। ভবিষ্যতেও এ আদর্শ আমাকে পথ দেখাবে। তিনি বলেন, এক সময় শিক্ষকতা করেছি বলেই আমার ইচ্ছা আছে নগরীতে মানসম্পন্ন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। যাতে সাধারণ মানুষের সন্তানরা পড়ালেখা করার সুযোগ পায়। ছাত্ররা যাতে মাদকে আসক্ত হতে না পারে সে জন্য আমার মূল টার্গেট হলো নগরীকে মাদকমুক্ত করা। এ ব্যাপারে আমার জিরো টলারেন্স থাকবে। এ ছাড়া মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার প্রথম কাজ হবে পল্লী এলাকার উন্নয়ন করা। আমি ভোটের আগে পল্লী এলাকার মানুষের কাছে ওয়াদা করেছি। সে ওয়াদা পূরণে সর্বাত্মকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। ২০৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ সিটির করপোরেশনের ১৫২ কিলোমিটারই পল্লী এলাকা। গত পাঁচ বছরে এসব এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কোমরগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম লেবু বলেন, মোস্তফা ভাই আমার বয়সে বড় হলেও একসঙ্গে এ স্কুলে বিএসসি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেই। তিনি যতদিন শিক্ষকতা করেছেন ততদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চলে গেলেন আর আমি পদোন্নতি পেয়ে পেয়ে এখন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। তিনি বলেন, মোস্তফা ভাই খুব সহজ-সরল মানুষ। সাধারণ মানুষকে ভালোবাসেন। যে কারণে তার নির্বাচনের সময় আমরা এলাকার লোকজন শহরে যার যেখানে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আছে সবাইকে মোস্তফা ভাইকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় আমরা গর্ববোধ করি। তাকে কোমরগঞ্জ স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত