প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশেও আসছে!
কলকাতায় লজেন্সরুপী মাদকের ছড়াছড়ি

খায়রুল আলম :  এবার কলকাতার ড্রাগ চক্রে চিনা আগ্রাসন ! মূলত ইয়াবা-র মতো কাঁচামাল হিমাচল প্রদেশ , চেন্নাইয়ের মতো শহর থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিনে  ৷

সেখানে রাতারাতি তৈরি হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রঙের লজেন্স ৷ আর এটি এখন শুধু কলকাতাতেই নয় , বাংলাদেশেও এই মাদক প্রবেশ করছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা।

সেই ক্যান্ডি ফের ওখান থেকে মায়ানমার হয়ে ফিরে আসছে কলকাতা-সহ মেট্রো শহরগুলিতে ৷

গত কয়েকদিন আগে লজেন্সের মোড়কে কলকাতা শহরে ছাত্রদের মধ্যে যে নেশার দ্রব্য ছড়িয়ে দেওয়ার চক্র ধরা পড়েছে এনসিবির হাতে ,সেই ঘটনার তদন্তে নেমে এমন তথ্যই উঠে এসেছে৷

তদন্তকারীদের ধারণা , এর পিছনে চিনা ড্রাগ মাফিয়াদের বড়সড় ভূমিকা রয়েছে ৷ এনসিবির জোনাল ডিরেক্টর দিলীপ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন , ‘বাইরে থেকে মাদক আসার যে রুট , তা বন্ধ করার চেষ্টা করছি আমরা৷ ’ছ’মাস আগে এনসিবি প্রথম জানতে পারে লজেন্সের মোড়কে বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজ ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মাদক৷

মুম্বাই থেকে এই বিষয়ে তাদের প্রথম সতর্ক করা হয়৷ তদন্ত করতে নেমে জানা যায় অনেক ক্ষেত্রেই ইউরোপিয় এইসব লজেন্স ঢুকছে আকাশপথে৷ তবে বিভিন্ন বিমানবন্দরে কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ায় এই লজেন্স ইদানিং চিনে তৈরি হয়ে অনলাইনে আনা হচ্ছে শহরে ৷

যেহেতু এই অনলাইন অর্ডার হচ্ছে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে , ফলে তা সহজে ধরাও পড়ছে না ৷ গোয়েন্দাদের বক্তব্য , চিনের ড্রাগ মাফিয়াদের সঙ্গে এখানকার মাদক চক্রের যে যোগাযোগ রয়েছে তা প্রথম সরাসরি জানা যায় এক বছর আগে ৷ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চিনের কুনমিং বিমানবন্দরে হাসিস -সহ ধরা পড়ে দক্ষিণ কলকাতা এবং বন্দর এলাকার পাঁচ যুবক৷

যাদের মধ্যে একজন ছিল দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী কলেজের ছাত্র ৷ সেখানে কাঁচামাল পৌছে দিতে গিয়ে ধরা পড়ে যান এই পাঁচ জন৷ কিন্তু কলকাতায় ধরা পড়া সিন্থেটিক ড্রাগ এমডিএমএ ক্যান্ডি বাজেয়ান্ত হওয়ার পর জানা যায় এই শহরে ওই চিনা মাফিয়াদের বেশ কিছু হ্যান্ডলার রয়েছে ৷ যারা এসব লজেন্স স্থানীয় এজেন্টদের হাতে পৌছে দেন ৷

গোয়েন্দাদের বক্তব্য , সিঙ্গাপুর -মালয়েশিয়াতে তৈরি হওয়া এসব ক্যান্ডির এশিয়ার বাজার ধরার জন্য বহুদিন ধরেই চক্রটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ৷ কারন , এই এলাকার বাজারে অন্য জায়গার তুলনায় লাভের হার অনেকটাই বেশি থাকে৷

তদন্তে জানা গিয়েছে , চিন থেকে এই ধরনের মাদক লজেন্স আনার পর তা বাইরে পাঠানোর জন্য কুরিয়ার সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হয়৷ ওষুধ প্রস্তুতের জন্য সাদা পাউডারের মতো মাদককে সহজেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় এজেন্টদের কাছে ৷

কয়েক মাস আগে ইম্ফলে এ রকম একটি কনসাইনমেন্ট ধরা পড়ে যা চিন থেকে এনে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বুক করে পাঠানো হয়েছিল৷

এক এনসিবি কর্তা বলেন , গত বছর যারা চিনে ধরা পড়েছিল , তারা সম্ভবত এই নেশার শিকার হয়ে পড়েছিল৷ পরে তাদের এই চক্রে যুক্ত করে নেওয়া হয় এবং তাদের হাত দিয়েই মাদকের কাঁচামাল পাঠানো হয়েছিল কুনমিং৷

এই চক্রটি ইদানিং আবার উত্তরপূর্বের বেশ কিছু রাজ্যকে ব্যবহার করে বাংলাদেশেও সম্প্রতি মাদক পাচার শুরু করেছে বলেও গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন ৷ সেজন্য মণিপুর , অরুণাচলের মতো রাজ্যের বিমানবন্দরগুলিকেও সতর্ক করা হচ্ছে৷

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত