প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুয়েতেমালা: ডলারের কাছে স্বকীয়তা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি

জাকারিয়া হারুন : গুয়েতেমালার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক টেলিফোনালাপের পর ঘোষণা করেছেন, তার দেশ আমেরিকাকে অনুসরণ করে ইসরাইলস্থ নিজের দূতাবাস তেল আবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যে বক্তব্য রেখেছিলেন তা প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস হওয়ার মাত্র তিনদিন পর গুয়েতেমালা এ ঘোষণা দিল।

সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটির আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যেসব দেশ তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেবে সেসব দেশের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হবে। কিন্তু তারপরও বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে এবং প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।

বিশ্বের মাত্র যে আটটি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে সেসব দেশের মধ্যে গুয়েতেমালা ও হন্ডুরাস অন্যতম। ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশ দু’টি আর্থিক দিক দিয়ে আমেরিকার সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।

তবে গত ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো ল্যাটিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র নিন্দা জানায়। এসব দেশ ট্রাম্পের ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র আমেরিকার আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জেরুজালেম প্রসঙ্গে মার্কিন নীতি অনুসরণ করেছে গুয়েতেমালা। তাদের মতে, গুয়েতেমালাসহ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দানকারী আটটি দেশ কিছু ডলারের বিনিময়ে নিজেদের স্বকীয়তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিয়েছে।

তবে আশার কথা হচ্ছে, গুয়েতেমালাসহ যেসব দেশের সরকার জেরুজালেম প্রসঙ্গে মার্কিন নীতি অনুসরণ করছে সেসব দেশের জনগণ কিন্তু সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে না। ল্যাটিন আমেরিকায় বসবাসরত আরব বংশোদ্ভূত নাগরিকরা স্থানীয় জনগণকে একথা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, জেরুজালেম শুধু আরব বা মুসলিমদের সম্পদ নয় বরং এর প্রতি খ্রিষ্টানদেরও অংশীদারিত্ব রয়েছে। কাজেই এই নগরীকে একটি ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করলে অন্য দু’টি ধর্মের প্রতি অবিচার করা হবে। সূত্র : পার্সটুডে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত