প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গত ১২২ দিনে ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

রবিন আকরাম: জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অর্থাৎ ৪ মাসে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার। সব মিলিয়ে এখন শুধু কক্সবাজারেই আছে ৮ লাখ সাড়ে ৬৭ হাজার রোহিঙ্গা।

এদিকে এখনো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা থামছে না। গত এক সপ্তাহে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের হার কমে এলেও অন্তত ৬০৬ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অবশ্য গতকাল রোববার প্রবেশ করেছে মাত্র ৪৯ জন।

রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে গত ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করেছে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে সেখানে অনেকগুলো কাজ করতে হবে দুই দেশকেই।

প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের রাখাইনে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা। এরপর আসবে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি, এ কাজটি করতে বেশি সময় লাগার আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এরপর আছে তাদের পুনর্বাসনসহ জীবিকা নিশ্চিত করা, মিয়ানমারের সমাজে তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো। প্রত্যাবাসন টেকসই করতে হলে এই শর্তগুলো পূরণ করা জরুরি। কারণ, এবার যারা এসেছেন তাদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ২০১২ সালের জুনের সহিংসতার পর বাংলাদেশে এসে আবার ফিরে যান। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে মাত্র এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এত কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করা যাবে কি না।

রাখাইন থেকে এখনো যখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে, সেই সময়টায় তাদের ফেরত পাঠানো আদৌ সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নটাও বড় করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের রাখাইনে যে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, তার কোনো লক্ষণ নেই।’ কারণ, স্বেচ্ছায় তাদের ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। রোহিঙ্গারা যেমন জাতীয়তাবাদী সরকারকে ভয় পাচ্ছে, তেমনি মিয়ানমারের জনগণের ব্যাপক অংশের ঘৃণার হুমকিও বোধ করছে। আর যে সেনাবাহিনী চরম নৃশংসতা চালিয়ে তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে, তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে শরণার্থীদের বিপুল সংখ্যায় ফিরতে দেওয়া হবে না।

রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ ক্রিস লিওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে নিষ্পেষিত জনগণকে ফিরিয়ে আনতে সরকার এখন পর্যন্ত কিছুই করছে না।

অবশ্য মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাখাইনের তং পিউ লেট ওয়ার গ্রামের পুলিশ ফাঁড়ির কাছে দুটি ব্যারাক তৈরি করা হয়েছে। শুরুতেই সেখানে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে রাখা হবে। প্রাথমিক ওই ব্যবস্থা নিয়েই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এ মুহূর্তে কক্সবাজারের বালুখালীতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা তরুণ আরিফ উল্লাহ। কারণ, ২০১২ সালে সিত্তেতে সহিংসতার পর লোকজনকে আলাদাভাবে জড়ো করে রাখা হয়। পাঁচ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে ওই শিবিরেই থাকতে হচ্ছে। ওই শিবিরে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের খাবার ও চিকিৎসার সুযোগ নেই। সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হচ্ছে নারীদের। সূত্র: প্রথম আলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত