প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেয়াদ প্রায় শেষ অগ্রগতি শূন্য

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়া নেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। যেখানে ৩৮ প্রকল্পের ১৬টির অবস্থা নাজুক। সম্প্রতি এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটি (আইএমইডি)। প্রাপ্ত তথ্যমতে, কয়েকটি প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি নেই, দু-একটির অগ্রগতি ৬ শতাংশের কম, বেশ কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি ২৫ শতাংশের নিচে এবং ৫০ শতাংশের কম আটটি প্রকল্পের অগ্রগতি। অথচ অনেকগুলোর মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরে, কতগুলোর আগামী বছরে। এ ছাড়া কয়েকটি প্রকল্পের মেয়াদই নির্ধারণ করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সব প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক চিকিৎসক।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা-মাতার নামে নেওয়া প্রকল্পেরও কোনো অগ্রগতি নেই।

প্রকল্প পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অভিযোগ হচ্ছে, প্রকল্পের অগ্রগতি জানাতে চিঠি দিলেও অনেক সময় তার জবাব দেয় না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়; যার হার ২০ শতাংশ। অনেকটা নিরুপায় হয়ে এখন তথ্য সরবরাহ না করা প্রকল্পগুলোর কার্যক্রমকে দুর্বল এবং অগ্রগতি খুবই খারাপ এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিচ্ছেন তারা।

সংসদীয় কমিটির সদস্যরা প্রকল্পের বেহাল অবস্থা দেখে রীতিমতো চিন্তিত। কমিটির কোনো কোনো সদস্য ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, প্রকল্পের সব প্রকল্প পরিচালক চিকিৎসক থাকতে হবে, এ ধরনের কোনো নীতিমালা রয়েছে কি নাÑতা খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের অধীন প্রকল্পগুলোর তদারকি বাড়াতে টাস্কর্ফোস গঠনের সুপারিশ জানায় সংসদীয় কমিটি।

অনুমতি হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এক কার্যপত্রে স্বাস্থ্য খাতের অধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দেখা গেছে, এই খাতের অধীন ৩৮টি প্রকল্পের অধিকাংশের বাস্তবায়ন সন্তোষজনক নয়। যার মধ্যে ৫টির অগ্রগতি ২৫ শতাংশের কম, ৮টির ৫০ শতাংশের বেশি নয়, ১০টির শতভাগের নিচে।

এ ছাড়া স্টাব্লিশমেন্ট অব শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজ প্রকল্পের অগ্রগতি নেই, জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জামালপুর নার্সিং কলেজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬ শতাংশের কম, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রকল্পের অগ্রগতি ৩৬.৩৫শতাংশÑএই পাঁচটি প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ নেই বলে প্রতিবেদেন উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে অনুমিত হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অধীন বেশির ভাগ প্রকল্পের অগ্রগতির চিত্র বেহাল। আবার মেয়াদ নির্ধারণ ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে; যার বাস্তবায়নের হার শূন্যের কোটায়। ক্ষোভ জানিয়ে সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পিতা-মাতার নামে নেওয়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন নেই, তা হলে অন্য প্রকল্পের কোনো তদারকি নেই বলে আমি মনে করি। তিনি আরো বলেন, একটি প্রকল্পের কাঠামো শেষ না হলে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে তা বলার সুযোগ নেই। এটির পর হাসপাতালের মেশিনারিজ বা যন্ত্রপাতি এবং লোকবল নিয়োগের প্রসঙ্গ আসে।

অনুমতি হিসাব কমিটির আরেক সদস্য সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে; অথচ এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রকল্পের অগ্রগতির চিত্র ভয়াবহ। এসব খাতের প্রকল্পের গতি বাড়াতে টাস্কর্ফোস গঠন করা উচিত। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সব প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক চিকিৎসক এটা খতিয়ে দেখা দরকার।

এদিকে, স্বাস্থ্য খাতের ৩৮ প্রকল্পের মধ্যে ১৬টির অবস্থা বেশি নাজুক। নাজুক প্রকল্পগুলোকে বাছাই করে গত মাসে আইএমইডির ডিজি আল মামুনের নেতৃত্বে পরিকল্পনা কমিশনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

কাজের অগ্রগতি তলানিতে থাকা ১৬ প্রকল্পের একটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নির্মাণে ২০০৩ সালের জুলাইয়ে এই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অথচ প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যয় না বাড়িয়ে আরো এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে আইএমইডি। এটি সৌদি উন্নয়ন তহবিল (এসডিএফ) দাতা সংস্থার অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ৩০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি দুদফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়, আবারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরই শেষ হওয়ার কথা।

আর কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। এর আগে ২০১২ সালে এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হলেও সংশোধন চূড়ান্ত না হওয়ায় সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোর চিত্র একই।

প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইএমইডির সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রকল্প অগ্রগতি জানতে চিঠি দিলেও তা আমলে নেয় না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্য মন্ত্রণালয়। অথচ কাজের অগ্রগতি বাস্তবায়নে কোনো গ্যাপ রয়েছে কি নাÑতা তদারকির দায়িত্ব এই সংস্থার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চিঠি দিলেও ২০ শতাংশ জবাব পাওয়া যায় না উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, তথ্য না পাওয়ায় প্রতিবেদন তৈরি করতেও সমস্যায় পড়তে হয়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এক মাস অন্তর একটি করে অগ্রগতি প্রতিবেদন নেওয়া হচ্ছে এবং যারা দিচ্ছেন না তাদের অগ্রগতি খুব খারাপ; তাদের বিরুদ্ধে গুণাগুণ বা ধারণ ক্যাপাসিটি দুর্বল মনে করা হচ্ছে, এই বলে আপত্তি দেওয়া হচ্ছে, যোগ করেন আইএমইডির সচিব। প্রতিদিনের সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত