প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা নিয়ে দুই চিন্তা

//আওয়ামী লীগের এক গ্রুপ ভোটের পক্ষে, আরেক গ্রুপ বিপক্ষে, নীরব প্রস্তুতিতে বিএনপি//
ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচন নিয়ে দুই চিন্তায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের এক গ্রুপ চায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচনে সরকারের জনপ্রিয়তা এবং দলের সাংগঠনিক শক্তির যাচাই। তাছাড়া নির্বাচন না হলে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এতে অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। আরেক গ্রুপ বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীতে ‘ঝুঁকি’ নেওয়া ঠিক হবে না। এ ছাড়া প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বিকল্প প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনসহ যে কোনো নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আর ‘ফাঁকা’ মাঠে গোল দিতে দেবে না। আগামীতে যে কোনো নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ছাড় দিতে দলটি নারাজ। বর্তমানে তারা নীরব থাকলেও প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। উভয় দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই উপনির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে ভিতরে ভিতরে কাজ করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। তবে এ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো কথা বলছেন না দলের কেউ। উত্তর সিটিতে কে দলীয় প্রার্থী হবেন তা মোটামুটি চূড়ান্ত। দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে পুরোদমে কাজ চলছে। গত সিটি নির্বাচনের সময় বিএনপি অনেক কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি। নির্বাচনের দিন বেলা ১১টায় বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তারপরও রাতে ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট পেয়েছেন তিনি। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক ৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। গত সিটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অগ্রসর হবে বিএনপি। সে জন্য জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াসহ শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে মাঠের বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার পর তারা দলীয় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করবে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ পাঁচ সিটি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন করবে না দল। একইভাবে আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও প্রার্থী দেবে তারা। হার-জিত যাই হোক, আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবে না বিএনপি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, ‘এর আগে বিএনপি স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনেও বিএনপি অংশ নিতে চায়। তবে সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটিতে দলের যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। সময়মতো দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।’ আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগেই মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দুই রকম চিন্তায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। একটি গ্রুপ চায় নির্বাচন যথাসময়েই হোক। তারা মনে করেন, কোনো কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন আটকে গেলেও গাজীপুর, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা সিটি নির্বাচন করতেই হবে। বরং ঢাকার নির্বাচন না দিলে জনমত আওয়ামী লীগের বিপক্ষে চলে যাবে। এর প্রভাব ফেলবে অন্য সিটি নির্বাচনসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এ অংশের নেতারা মনে করেন, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক দৃশ্যমান সফলতার যে চিহ্ন রেখে গেছেন, এতে ভোটাররা আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে। দলের আরেকটি গ্রুপ মনে করে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পর বিরোধী কেউ মেয়র পদে পাস করলে তার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। আর দলীয় কেউ মেয়র হলে আওয়ামী লীগকে আরও অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হতে হবে। এর বাইরে প্রার্থী বাছাই, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রমাণ, একই সঙ্গে ফল ঘরে তোলা নিয়ে বেশ বেগ পোহাতে হবে দলকে। সূত্রমতে, ঢাকাকে দুই ভাগ করার পর গত নির্বাচনে সফল ব্যবসায়ী আনিসুল হককে উত্তর সিটি করপোরেশনে মনোনয়ন দিয়ে বেশ ফুরফুরেই ছিল আওয়ামী লীগ। সেবার নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও জয় হয়েছে দলটিরই। গত দুই বছরে কর্মঠ আনিসুল হক তার কর্মকাণ্ডে জনতার মন জয় করে নিয়েছিলেন। এবারও সে ধরনের প্রার্থীর সন্ধান করা হচ্ছে। প্রার্থী তালিকায় চারজনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় আছে দলের মধ্যে। গত শনিবার রাতে গণভবনে দলের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। দীলয় সূত্র জানায়, ডিএনসিসির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, অনেক ব্যক্তির নামই আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে শিল্পী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলের নেতাদের জানান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময়ই সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। রংপুর সিটি নির্বাচন তার প্রমাণ। আমরা চাই সব দল নির্বাচনমুখী হোক। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে ‘হতে দেব না’, ‘প্রতিহত করব’ নানা টালবাহানা করে। রংপুরে বিএনপি সহিংসতায় জড়ায়নি। তাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। ঢাকা সিটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, যাকে দিয়ে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের উচ্চ পর্যায়ের দুজন নেতা জানান, ঢাকা যার-রাজপথ তার। সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যাওয়া অনেক চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ এত উন্নয়ন করার পরও রংপুরে আমাদের প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পর বিরোধী কেউ মেয়র পদে পাস করলে তার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত